দেশজুড়ে

রাঙামাটিতে সরকারি ক্লিনিকগুলোর বেহাল দশা

নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় পার্বত্য জেলা রাঙামাটির সরকারি ক্লিনিকগুলোর এখন বেহাল দশা। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থাপিত এসব ক্লিনিক অনেকটা দায়সারাভাবেই চলছে। বেশ কয়েকটি ক্লিনিক সরেজমিন পরিদর্শনে এমন চিত্র দেখা গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিকগুলোর অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। নামেই ক্লিনিক, নেই চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা। কর্মরত চিকিৎসক, স্বাস্থ্য সহকারী ও কর্মীরা থাকেন না কর্মস্থলে। ফলে মাসের পর মাস ক্লিনিকগুলো পড়ে থাকে ফাঁকা। এছাড়া বিদ্যুৎ, পানি, ওষুধ, চিকিৎসক ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদির সংকট তো রয়েছেই। বেশিরভাগ ক্লিনিকের অবকাঠামো জরাজীর্ণ। রাঙামাটির ১০ উপজেলার সবকটিতে রয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। এসব ক্লিনিক রয়েছে ৪৯টি ইউনিয়নের প্রায় সবকটিতে। এছাড়া রয়েছে কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিক। কিন্তু প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য এসব সরকারি ক্লিনিক স্থাপিত হলেও জনগণ বঞ্চিত কাঙ্খিত সেবা ও সুযোগ-সুবিধা থেকে। রাঙামাটি সদর, জুরাছড়ি, বরকল, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, নানিয়ারচরসহ কয়েকটি উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং হেলথ ক্লিনিক সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো জরাজীর্ণ ও অস্বাস্থ্যকর। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ লোকজনের উপস্থিতি না থাকায় ফাঁকা হয়ে পড়ে রয়েছে।স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব সরকারি ক্লিনিকে কোনো চিকিৎসক আছেন কিনা আদৌ তারা তা জানেন না। সপ্তাহে দু-এক দিন কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীর দেখা মেলে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নেই। সরকারি কোনো ওষুধপত্রও মেলে না। তাদের ধারণা, সরকার বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ দিলেও সেগুলো কালোবাজারে বিক্রি করা হয়ে থাকে।এ ব্যাপরে সদ্য অবসরে যাওয়া সিভিল সার্জন ডা. স্নেহ কান্তি চাকমা অনিয়ম-অব্যস্থাপনার কথা স্বীকার করে বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা কর্মস্থলে না থাকায় উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ক্লিনিকগুলোতে সেবা নিশ্চিত করা যায়নি। তিনি দায়িত্বে থাকাকালে অনেক সময় কড়াকড়ি হস্তক্ষেপ করতে চেয়েছেন। কিন্তু কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।   তিনি বলেন, সরকার জনগণের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ক্লিনিক স্থাপন করেছে। কিন্তু সেগুলো সেবা নিশ্চিত করতে পারেনি। তাছাড়া প্রয়োজনীয় লোকবল নেই। অনেকগুলো হেলথ ক্লিনিকের অবস্থা খুবই নাজুক। ক্লিনিকগুলোতে সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দরকার।   তবে কর্মস্থলে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, অত্যন্ত প্রতিকূলতার মধ্যে সেবা কার্যক্রম পরিচালিত করতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় লোকবল যেমন স্টাফ, ল্যাবরেটরি ও ওষুধ সংকট থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবার প্রয়োজনীয় সুবিধাদির অভাব লেগেই আছে। এ কারণে রোগীরা ন্যূনতম স্বাস্থ্য সেবাও পান না। জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গামাটি সদরে ছয়টি, কাউখালীতে তিনটি, নানিয়ারচরে দুটি, কাপ্তাইয়ে চারটি, বিলাইছড়িতে তিনটি, রাজস্থলীতে তিনটি, বাঘাইছড়িতে সাতটি, বরকলে তিনটি, জুরাছড়িতে তিনটি এবং লংগদু উপজেলায় আটটি কমিউনিটি হেল্থ ক্লিনিক স্থাপিত হয়েছে। এসব ক্লিনিকে তিনজন করে কমিউনিটি হেলথ্ কেয়ার প্রোভাইডার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ, পানি, ওষুধ ও চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে সেবা অপ্রতুল। অনেক স্বাস্থ্য কেন্দ্র অকেজো পড়ে রয়েছে। সংস্কারের অভাবে অনেকগুলোর অবকাঠামো ভবন জরাজীর্ণ। অনেকগুলোতে কোনো কার্যক্রম নেই। জেলা সিভিল সার্জন অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শাহজাহান মজুমদার বলেন, জেলার দশটি উপজেলায় মোট ১৪৭টি কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিক স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। এ পর্যন্ত ৮১টি চালু হয়েছে। বাকি ৬৬টি ক্লিনিক জমি না পাওয়ায় অবকাঠামো নির্মাণ সম্ভব হয়নি। তবে প্রস্তাবিত ১৪৭ ক্লিনিকের সবগুলোতে একজন করে হেলথ্ প্রোভাইডার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যেসব ক্লিনিক চালু হতে পারেনি সেগুলোর হেলথ প্রোভাইডাররা পাশের ক্লিনিকে সার্ভিসে রয়েছেন।   এছাড়াও রাঙামাটি সদরসহ জেলার দশটি উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে। কিন্তু এসব হাসপাতালে প্রতিটিতে কর্মরত মাত্র ১-২ ডাক্তারের পক্ষে রোগীদের সামাল দেয়া কঠিন।                                        জেলা সদরে ১০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল আছে। ৯ উপজেলা সদরে ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ১০ শয্যার একটি হাসপাতাল রয়েছে। ১১টি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। রাঙামাটি সদরের বন্দুকভাঙা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরুণ কান্তি চাকমা বলেন, এ ইউনিয়নে কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিক এবং স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে কাঙ্খিত কোনো সেবা নেই। আরএআর/আরআইপি