দেশজুড়ে

কুমারখালীতে নির্মিত হচ্ছে ‘নারী মার্কেট’

আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ ও নারীদের মাঝে কর্মস্পৃহা সৃষ্টির লক্ষে কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে নির্মিত হচ্ছে নারী মার্কেট। খুলনা বিভাগের মধ্যেই এটিই প্রথম নারী মার্কেট। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ফেব্রুয়ারি মাসে নির্মাণ কাজ শুরু হওয়া এই মার্কেট চলতি মাসের যেকোনো দিন উদ্বোধন করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। জানা গেছে, কুমারখালী শহরের শিল্পকলা একাডেমি সংলগ্ন শেরকান্দি মৌজায় ৫ শতক জায়গার ওপর নির্মিত হচ্ছে এই নারী মার্কেট। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে এই মার্কেটে ওয়াশরুমসহ ৮টি দোকান ঘর নির্মাণ করা হবে। একতলা বিশিষ্ট নারীবান্ধব এই মার্কেটের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির (টিআর) আওতায় এই মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হান এই মার্কেট নির্মাণের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাহেলা আক্তার বলেন, কুষ্টিয়ার মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল ও শিক্ষিত হলেও কুমারখালী উপজেলার বিশেষ করে নারী জনগোষ্ঠী কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। এ কারণে এখানে মাধ্যমিকে নারীদের ঝরে পড়া এবং বাল্যবিবাহের প্রবণতার হার প্রবল। এ অবস্থায় নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে একদিকে যেমন নারীদের সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে অন্যদিকে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েই এ উপজেলার নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষে এই নারী মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে। চলতি মাসেই এই মার্কেট আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।কুমারখালী উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান খান জানান, উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতকরণ শীর্ষক ইনোভেশন প্রকল্পের আওতায় ৭০ জন নারীকে সেলাই, বেকারি, বিউটিফিকেশন ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া নারী উন্নয়ন ফোরাম ও উপজেলা পরিষদ উন্নয়ন তহবিলের অর্থায়নে বিউটিফিকেশন, সেলাই ও গবাদি পশু পালন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। নারী মার্কেটে এসব প্রশিক্ষিত নারীর মধ্যে থেকে যোগ্য ও আগ্রহী নারীদের দোকান বরাদ্দ প্রদানে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। তাঁত শিল্প অধ্যুষিত এলাকা হওয়ার কারণে এখানকার বিপুল সংখ্যক নারী হস্তচালিত ও যন্ত্রচালিত তাঁতে লুঙ্গি, শাড়ি ও বিছানার চাদর উৎপাদন করে থাকেন। নিজেদের উৎপাদিত এসব পণ্য বাজারজাত করণে আগ্রহী নারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দোকান বরাদ্দ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।  আল-মামুন সাগর/এএম/জেআইএম