দেরিতে হলেও পাহাড়ে ভুট্টা চাষে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন কৃষকরা। যেখানে এক সময় বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ জুড়ে দেখা যেতো তামাকের চাষ সেখানে এখন জায়গা করে নিয়েছে ভুট্টার আবাদ। কম খরচে অধিক লাভের বিষয়টি বোঝার পর থেকে ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়েছেন এখানকার কৃষকরা। জানা গেছে, তুলনামূলক কম পুঁজি আর নামমাত্র পরিচর্যায় অনেক ভালো ফলনের সুযোগ থাকায় ভুট্টা চাষে ঝুকছেন স্থানীয় কৃষকরা। রোগ বালাই কম এবং উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় অন্য ফসলের পরিবর্তে ভুট্টা চাষকে বেছে নিচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।এছাড়া বহুবিদ ব্যবহার থাকায় ভুট্টা চাষে কৃষকদের বাড়তি আগ্রহ রয়েছে বলেও জানান কৃষি কর্মকর্তারা। ভুট্টা সাধরণত সিদ্ধ ও পুড়িয়ে খাওয়া হয়। এছাড়াও ভুট্টার পাতা গো-খাদ্য হিসেবে আর কাণ্ড ও মোচা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।খাগড়াছড়ির চেঙ্গী, মাইনী ও ফেনী, ধুরং ও ধলিয়া খাল তীরবর্তী মাঝারি-উঁচু মানের উর্বর জমিতে এক সময় তামাকের ব্যাপক চাষ হলেও সেখানে এখন জায়গা করে নিয়েছে স্বল্প পুঁজি আর অধিক লাভের ভুট্টা চাষ। এক সময় স্থানীয়রা ভুট্টাকে নিজেদের খাবার হিসেবে চাষ করলেও সম্প্রতি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ভুট্টা চাষকে বেছে নিয়েছেন। খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা, মানিকছড়ি ও গুইমারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ জুড়ে বিস্তীর্ণ জমিতে ভুট্টার আবাদ। সবুজ ভুট্টার পাতায় দুলছে কৃষকের হাসি।কৃষি বিভাগের দেয়া পরিসংখ্যান মতে, গেল মৌসুমে খাগড়াছড়িতে প্রায় ৪শ হেক্টরেরও বেশি জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে তা বেড়ে এক হাজার হেক্টরে উন্নীত হয়েছে বলে স্থানীয় কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। ভুট্টা চাষের ফলে জেলায় আর কোনো জমি পতিত থাকবে না বলেও নিশ্চিত করে কৃষি বিভাগ। ২০ শতক জমিতে ভুট্টা চাষ করে গত বছর প্রায় ২০ হাজার টাকা আয় করা বেলছড়ির কৃষক মো. নাদেরুজ্জামান এ বছর ৩০ হাজার টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন। তিনি বলেন, এবছর ২৪ শতক জমিতে ভুট্টাচাষে তার খরচ হয়েছে সাড়ে চার হাজার টাকা। যা থেকে তিনি এবছর ৪০ হাজার টাকারও বেশি ভুট্টা বিক্রি করতে পারবেন। অন্যদিকে স্থানীয় বাজার থেকে ৩৫ টাকার ভুট্টার বীজ কিনে প্রায় দুই হাজার টাকার ভুট্টা বিক্রি করেছেন বলে জানান মাটিরাঙার গোমতির আলী আশরাফ।মাটিরাঙা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহ আলম মিয়া জানান, ভুট্টা চাষে কৃষি বিভাগ বিনামূল্যে বীজ ও সারসহ নানা প্রণোদনা দেয়ার কারণে এখানকার কৃষকদের মাঝে ভুট্টা চাষে আগ্রহ বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন কোম্পানি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ভুট্টা কিনে নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি। এছাড়া আলু ও বেগুনসহ বিভিন্ন সবজির সঙ্গে ভুট্টা সঙ্গী ফসল হিসেবে চাষ করা সম্ভব বলে অনেকে এক ফসলি জমিতেও ভুট্টা চাষ করছেন বলে জানান তিনি। খাগড়াছড়িতে মূলত পতিত জমিতে ভুট্টা চাষ হচ্ছে উল্লেখ করে খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. আবুল কাশেম বলেন, রবি মৌসুমে যেসব জমিতে পানি সঙ্কট রয়েছে এমন এলাকার কৃষকরা ভুট্টা চাষ করছেন। তার মতে, খাগড়াছড়িতে প্রতি বছর প্রায় আট হাজার হেক্টর মাঝারি উঁচু ভূমি পতিত থাকতো। ভুট্টা চাষ শুরু হওয়ার ফলে এখানে আর কোনো জমি পতিত থাকছে না। কম পুঁজিতে ভালো দাম পাওয়ায় অনেক কৃষক তামাক চাষ ছেড়ে ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে ভুট্টা চাষ পাল্টে দিতে পারবে খাগড়াছড়ির অর্থনীতির চিত্র।মুজিবুর রহমান ভুইয়া/এফএ/পিআর