আমার জন্য একটা কিছু করুন-ভারতীয় তরুণী রেজিনার এই আকুতি কাজে লেগেছে। যেভাবে এসেছিল বাংলাদেশে সেভাবেই তাকে ভারতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।গত শুক্রবার বিকেলে পুরো গোপনীয়তায় তাকে হিলি সীমান্ত দিয়ে পার করে দেয়া হয়। ওপারে মেয়েকে গ্রহণ করেছেন বাবা পিকআপচালক আবদুর রশিদ।গত ৭ মার্চ স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে ভারতীয় তরুণী রেজিনা পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। এরপর সে আকুতি জানায়, আমি ভারতে আমার বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যেতে চাই। আমার জন্য একটা কিছু করুন। এ আবেদনের পর প্রশাসন পুরো নিরাপত্তা দিয়ে তাকে ১১ দিন ধরে পার্বতীপুর হাসপাতালে রাখে। পরে প্রশাসন উদ্যোগ নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফর সঙ্গে আলোচনা করে। একই সঙ্গে মেয়ের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে মেয়েটির বাবা আবদুর রশিদ হিলি সীমান্তের ভারতীয় অংশে অবস্থান নেন।গত শুক্রবার কড়া গোপনীয়তায় প্রশাসনের সহযোগিতায় তরুণী রেজিনাকে হিলি সীমান্তে তার বাবার হাতে তুলে দেয়া হয়।এ ব্যাপারে পার্বতীপুর থানা পুলিশের ওসি মোস্তাক আহম্মেদ ভারতীয় তরুণী রেজিনার ভারতে চলে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, যেভাবে সে বাংলাদেশে এসেছিল সেভাবেই সে ভারতে তার বাবা-মার কাছে ফিরে গেছে। এর থেকে বেশি কিছু জানাতে রাজি হননি তিনি।উল্লেখ্য, দিনাজপুরের পার্বতীপুর শহরের রোস্তমনগর মহল্লার সুজন শেখের ছেলে সাগর শেখ (২৮) ভারতের আসাম প্রদেশ থেকে রেজিনা আহম্মেদ নামে এক তরুণীকে কলকাতার বাসিন্দা পরিচয় দিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে বিনা পাসপোর্টে বাংলাদেশে নিয়ে আসে। পরে তার ওপর শুরু করে নির্যাতন। নির্যাতনের শিকার ওই কিশোরী ৭ মার্চ মঙ্গলবার পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়।রেজিনা আহাম্মেদ ভারতের আসাম প্রদেশের সুনিতপুর জেলার তেজপুর এলাকার মহাভৈরব থানার গুটলংবিতোসুতি গ্রামের আবদুর রশিদ ও মা মাজেদা বেগমের মেয়ে।এমদাদুল হক মিলন/এমএএস/আরআইপি