কুষ্টিয়ায় স্নিগ্ধা আক্তার রিমি (২০) নামে এক গৃহবধূকে হত্যার দায়ে স্বামী মো. শিহাব উদ্দিন ওরফে শিশিরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক রেজা মহম্মদ আলমগীর হাসান এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শিহাব উদ্দিন ওরফে শিশির বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
কুষ্টিয়া জজ কোর্টের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী মামলার বরাত দিয়ে জানান, কুষ্টিয়া শহরতলীর চৌড়হাস ফুলতলা এলাকার মো. আব্দুল খালেকের মেয়ে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অনার্সের ছাত্রী স্নিগ্ধা আক্তার রিমিকে (২০) প্রাইভেট পড়ানোর সুবাধে মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের চুনিয়াপাড়া গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ছাত্র শিহাব উদ্দিন ওরফে শিশির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।
এক পর্যায়ে তারা গোপনে বিয়ে করে। ২০১৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি রিমি বাড়ি থেকে কলেজে যাওয়ার কথা বলে বের হয়। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায় না। ওই দিন ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে ছোট বোন উর্মির কাছে স্নিগ্ধা আক্তার রিমির ফোন থেকে কল করে বলা হয় তার বোনকে মিরপুর উপজেলার নওদা বহালবাড়িয়া গ্রামের মৃত আমিন উদ্দিনের বাড়িতে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রাখা হয়েছে।
খবর পেয়ে রাতেই পরিবারের লোকজন সেখানে গিয়ে ঘরের মধ্যে গলায় ওড়না দিয়ে পেঁচানো নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হওয়া অবস্থায় রিমির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে।
ওই বাড়ির মালিক মৃত আমিন উদ্দিনের স্ত্রী ঘাতক শিহাবের খালা কদভানু পুলিশ ও এলাকাবাসীকে জানায়, ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় শিহাব রীমিকে নিয়ে তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। রাতের খাবার খেয়ে তারা এক সাথে ঘুমাতে যায়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে শিহাব খালা কদভানুর রুমে এসে বলে ‘খালা আমি স্নিগ্ধাকে শেষ করে দিয়েছি’। এ কথা বলে সে ঘরের মধ্যে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নিহত রীমির ভাই আব্দুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে পরের দিন ১৪ ফেব্রুয়ারি মিরপুর থানায় ঘাতক শিহাব উদ্দিন ওরফে শিশিরকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মিরপুর থানায় মামলা নং-১০। ধারা ৩০২/৩৪। মামলা দায়েরের পর পুলিশ আসামি শিহাব উদ্দিন ওরফে শিশিরকে ওই বছরের ১৯ মার্চ গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে সে আদালত থেকে জমিন নিয়ে বের হয়ে যায়। আদালত ১৪ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মামলার একমাত্র আসামি শিহাব উদ্দিন ওরফে শিশিরকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পিপি অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আমিরুল ইসলাম।
আল-মামুন সাগর/আরএআর/পিআর/জেআইএম