টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম ফরিদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক তাহেরুল ইসলাম ওরফে তোতা ও অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা নূরুল ইসলাম সরকারের দ্বিতীয় দফায় তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভূঞাপুর আমলি আদালতে তাদের হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালতের বিচারক নওরিন মাহবুব তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক কুমার সিংহ জানান, গ্রেফতাররা প্রথম দফা রিমান্ডে হত্যাকাণ্ডের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। সেগুলো নিয়ে তদন্ত চলছে। তথ্যগুলো যাছাই-বাছাইয়ের জন্য মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফায় সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
এর আগে গত বুধবারও প্রথম দফায় তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছিল আদালত।
গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া উপজেলার ভারই মধ্যপাড়া গ্রামের মাঈনুল হাসান ওরফে মাসুদ, শওকত হোসেন ওরফে সৈকত, অলোয়া ইউপি সদস্য মকবুল হোসেন তরফদার ও নাসিরউদ্দিন রানা ফরিদ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাদের জবানবন্দিতে তাহেরুল ইসলাম তোতা ও নুরুল ইসলাম সরকারসহ এই হত্যায় কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার নাম বেরিয়ে আসে।
প্রসঙ্গত, গত ৬ ডিসেম্বর সকালে ভূঞাপুর উপাজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল ইসলামের গলাকাটা মরদেহ তার নিজ গ্রাম ভারই মধ্যপাড়ার একটি নির্জন পুকুরপাড় থেকে উদ্ধার করা হয়। আগের দিন রাত সাড়ে ৯টার পর তিনি নিখোঁজ হন। ওই দিনই (৬ ডিসেম্বর) রকিবুলের ভাই ফজলুল করিম বাদী হয়ে ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।
পরে ফজলুল করিম বাদী হয়ে গত ১৫ ডিসেম্বর টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে আরও একটি সম্পূরক মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তাহেরুল ইসলাম ওরফে তোতা, অপর যুগ্ম-আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্য আব্দুল হামিদ মিয়া ওরফে ভোলা, অলোয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম সরকারসহ সাত জনের নাম উল্লেখ করা হয়। আদালত থানা ও আদালতে দায়ের করা মামলা দুটি একসঙ্গে তদন্তের আদেশ দেন।
আরিফ উর রহমান টগর/আরএআর/পিআর