জলাশয়ে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও ভারতীয় নাগরিকদের বিরোধের জেরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার জমিনপুর সীমান্তে বিএসএফের হামলায় ১২ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ ভূখন্ডের প্রায় একশ গজ ভেতরে ঢুকে বিএসএফের চালানো সাউন্ড গ্রেনেড হামলায় নারী ও শিশুসহ ১২ জন আহত হন। এ ঘটনায় সীমান্তে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এলাকাবাসী জানায়, সকাল ১১টার দিকে জমিনপুর সীমান্ত সংলগ্ন একটি জলাশয়ে মাছ ধরার সময় বাংলাদেশি নাগরিকদের বাধা দেয় বিএসএফ। এরই জের ধরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিএসএফকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে বাংলাদেশিরা। এতে ৪/৫ জন আহত হয়।
এ ঘটনার পর দুপুর সোয়া ১টার দিকে ভারতের চুরি অনন্তপুর বিএসএফ ফাঁড়ির ৩০/৩৫ জন বিএসএফ সদস্য সশস্ত্র অবস্থায় ১৭৯নং সীমান্ত পিলারের ৪ ও ৫নং সাব-পিলারের মাঝামাঝি এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের ১০০ গজ অভ্যন্তরে জমিনপুর পশ্চিম পাড়ায় ঢুকে পড়ে।
এসময় বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশিদের ঘরবাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপসহ বেশ কয়েকটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে ওই গ্রামের আবু সায়েদ, মাসুম, মোতালেব, নজরুল, সালমা, সোবহান, শামীম, কুলসুম, ডলিয়ারা, দুরুল ও রুবেলসহ ১২ বাংলাদেশি নাগরিক আহত হন।
আহতদের মধ্যে মাসুমকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে বিজিবির কিরনগঞ্জ বিওপির একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছলে বিএসএফ সদস্যরা ভারতীয় অংশে চলে যায়।
এ ঘটনার পর বিকেল ৪টার দিকে কিরনগঞ্জ সীমান্তের ১৭৯নং সীমান্ত পিলারের ৫নং সাব-পিলার এলাকায় বিজিবি-বিএসএফর মধ্যে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বিজিবির পক্ষে ৯-বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এসএম আবুল এহসান ও বিএসএফের পক্ষে ২৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমাডেন্ট একে হটকার নেতৃত্ব দেন।
বৈঠক শেষে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৯-বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আবুল এহসান জানান, পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশি ভূখণ্ডে বিএসএফ সদস্যদের অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানায় বিজিবি। সীমান্তে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে উভয়পক্ষ সম্মতি হয়েছে।
এআরএ/জেআইএম