কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে জাল দলিল তৈরি করে এক কৃষকের জমি আত্মসাতের মামলায় সিরাজ মিয়া ও তার সহযোগী রিপনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
কিশোরগঞ্জের ৪ নং জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক এএসএ আনিসুল ইসলাম মঙ্গলবার তাদের জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, অষ্টগ্রামের আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের কদমচাল গ্রামের মো. সুরুজ আলীর ছেলে মো. সিরাজ মিয়া নিজেকে ক্রেতা দেখিয়ে ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাল দলিল রেজিস্ট্রি করেন।
ওই দলিলে বিক্রেতা হিসেবে ভবতোষ নাথ, গজেন্দ্র নাথ, বিধান নাথ, ভুলন নাথ, বিজয় নাথ, প্রশান্ত নাথ ও পিযূষ নাথকে দাতা হিসেবে দেখানো হয়।
দলিলে যাদের দাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তারা প্রায় ২০ বছর আগে ভারতে চলে যান। প্রকৃত পক্ষে দলিলে উল্লেখ করা ১৯ শতাংশ জমির মালিক হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার পৈলারকান্দি ইউনিয়নের নজরপুর গ্রামের সাবেক স্কুলশিক্ষক মো. নূরুল ইসলাম।
জাল দলিলের বিষয়টি জানতে পেরে নূরুল ইসলাম মাস্টার ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের ৪ নং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন।
জাল দলিলের ক্রেতা মো. সিরাজ মিয়া ছাড়াও সাক্ষী সাইকুল ইসলাম, ইলিয়াস মিয়া, শনাক্তকারী রিপন মিয়া ও দলিল লেখক হোসেন আহম্মদকে ওই মামলার আসামি করা হয়।
আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তপূর্বক আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে অষ্টগ্রাম উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. মোজাম্মেল হক তালুকদার গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এতে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন আদালত। গত ২৮ মার্চ আসামি সিরাজ মিয়া ও রিপন মিয়া আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বাদী সিরাজ উদ্দিন মাস্টার বলেন, দলিল মূলে ১৯ শতাংশ জমি কিনে প্রায় ২৫ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছি। সিরাজ মিয়া একজন চিহিৃত ভূমি দস্যু। ভারতে অবস্থান করা ব্যক্তিদের দাতা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি অষ্টগ্রামে একটি স্কুলের জমিসহ অসংখ্য কৃষকের জমির জাল দলিল তৈরি করে আত্মসাতের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে জাল দলিল তৈরি করে জমি দখলসহ অসংখ্য মামলা রয়েছে।
নূর মোহাম্মদ/এএম/এমএস