বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের পানগুছি নদীতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ১৮ জনের মধ্যে বুধবার দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এনিয়ে মোট ছয়জনের জনের মরদেহ উদ্ধার হলো। উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের একাধিক দল। ট্রলার নিয়ে নদীর বিভিন্ন এলাকায় চলছে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান।
বুধবার বেলা ১১টায় মোড়েলগঞ্জ উপজেলার শ্রেণীখালীর নদীর চর থেকে রিমা আক্তার নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া শরনখোলা তুষখালী নদী থেকে দুপুরে আবীর আল শামস (১৬) নামে এক স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আবীর শরণখোলা উপজেলা রায়েন্দা পাইলট বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণীর ছাত্র। মঙ্গলবার বাগেরহাট থেকে মা রোকেয়া বেগমের সঙ্গে আবির বাড়ি ফিরছিল। ট্রলার ডুবির পর রোকেয়া বেগম সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও নিখোঁজ ছিল স্কুলছাত্র আবির।
মঙ্গলবার সকালে প্রমত্তা পানগুছি নদীতে খেয়া পারাপারের ট্রলার ডুবির ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন- মোড়েলগঞ্জের কাছিঘাটা গ্রামের হেলেনা বেগমের ছয় বছরের শিশু নাজমুল, ছোট জামুয়া গ্রামের মনোয়ারা বেগম (৩৮), উত্তর ফুলহাতা গ্রামের হাসিব (৮), ছোটপড়ি গ্রামের নাসিমা আকতার (১৮), রায়েন্দা বাজারের আবির (১৭), বদনিভাঙ্গা গ্রামের বশির (২২), কাছিকাটা গ্রামের আব্দুল মজিদ শেখ, বরুজবাড়িয়া গ্রামের সুলতান আহমেদ (৬০), ভাইজোড়া গ্রামের খাদিজা (৪০), রাহাত (১০), আনছার হাওলাদার ( ৩৮), মোশাররফ হাওলাদার (৫০), সালমা বেগম (৩০) মুন্নী আক্তার (৩০) শিশু সাজ্জাত (২) ও লাবনী আক্তারসহ (৭) ১৬ জন।
এ বিষয়ে মোড়েলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তা মো. ওবায়দুর রহমান জানান, দ্বিতীয় দিনে এ পর্যন্ত দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মোড়েলগঞ্জ উপজেলার পুটিখালী গ্রামের হালিম হাওলাদারের মেয়ে রিমা আক্তার ও শরনখোলার রায়েন্দা পাইলট স্কুলের ছাত্র আবির আল শামস। ফায়ার সার্ভিসের দুটি দল, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। নিখোঁজদের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মোলেড়গঞ্জের পানগুছি নদীতে খেয়া পারাপারের জন্য ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত একটি ট্রলার শতাধিক যাত্রী নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও স্রোতের কারণে নদীতে ডুবে যায়। এ পর্যন্ত পাঁচ নারী ও এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনো প্রশাসনের হিসেব মতে ১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
আরএআর/এমএস