দেশজুড়ে

রেণুতেই তাদের জীবন-জীবিকা

ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নদী ইসামতি। নদীর অর্ধেকটা ভারতীয় অংশ আর অর্ধেকটা বাংলাদেশ অভ্যন্তরে। সাতক্ষীরা, দেবহাটা, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার ওপর দিয়ে দুই দেশের সীমানা ঘেষে বয়ে গেছে বিশাল নদীটি।

এ নদীকে ঘিরে জীবন-জীবিকার অন্বেষণ করছেন দেবহাটার কয়েক হাজার মানুষ। নদীই যেন তাদের জীবিকার প্রধান উৎস। রোববার বিকেলে দেবহাটার ইসামতি নদীর পাড়ে নদীনির্ভর এসব মানুষের সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের এই প্রতিবেদকের।

দেবহাটা সদরের মৃত. আলী গাজীর ছেলে নুর আলী গাজী জাগো নিউজকে বলেন, নদীতে গলদা চিংড়ি মাছের রেণু ধরেই চলছে আমার সংসার। ছোট বেলা থেকেই এ নদীতে মাছ ধরি, গলদা চিংড়ির রেণু ধরি। এখন গলদা মাছের রেণু ধরছি।

প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় হয় গলদার রেণু বিক্রি করে। শুধু আমি নই, ইসামতির তীরে এমন হাজারো মানুষ গলদা চিংড়ির রেণু ধরে জীবিকা নির্বাহ করছে।

তিনি বলেন, এগুলো বিক্রি করতে বাইরে কোথাও যেতে হয় না। বড় ব্যাপারীরা এখান থেকেই এসে কিনে নিয়ে যায়। তারা বিভিন্ন ঘের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন।

নদীর তীরে খুপড়ি ঘর বেঁধে নিয়েছেন প্রত্যেকে। এখানে থেকেই তারা মাছ ধরা, গলদার রেণু ধরার কাজ পরিচালনা করেন। এ কাজে তাদের সহযোগিতা করেন তাদের স্ত্রীরা। নেটে ওঠা হাজারও বিভিন্ন প্রজাতির রেণুর মধ্য থেকে গলদার রেণু খুঁজে বের করা অনেকটা কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ।

অপর একজন রেণু আহরোনকারী দেবহাটা এলাকার সুকুমার মন্ডল বলেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাছ ধরে যা আয় হয় তাতেই আমার সংসার। তবে এখন একটু কম পাচ্ছি গলদার রেণুগুলো। আজ খুব বেশি ধরতে পারিনি। নদী থেকে ধরা গলদার রেণুগুলো খুব ভালো হয়।

এ জন্য বড় ঘের ব্যবসায়ীরা সব কিনে নিয়ে যান। তাছাড়া অনেকে আগেই টাকা দিয়ে রাখেন রেণু নেয়ার জন্য। এর চাহিদা অনেক। তবে সরকারিভাবে কিছু সহযোগিতা পেলে মাছ ধরার পাশাপাশি অন্য কিছুও করতে পারতাম।

তবে সরকারিভাবে কোনো সাহায্য সহযোগিতার কর্মসূচি নেই জানিয়ে দেবহাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার মো. বদরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, যারা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে এমন ৫ হাজার ৫২ জন জেলে সম্প্রদায়ের মানুষকে মৎস্যজীবী কার্ড প্রদান করা হয়েছে।

এখানে সাহায্য সহযোগিতার কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে যাদের কার্ড প্রদান করা হয়েছে তারা শুধু যে ইসামতি নদীতেই মাছ ধরে এমন নয়। অনেকেই ইসামতি নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। তবে এখন আর খুব বেশি মাছের রেণু তারা পাচ্ছে না।

আকরামুল ইসলাম/এএম/জেআইএম