মৌলভীবাজারের নাসিরপুরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত জঙ্গি লোকমান আলীর বাড়ি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে। মাদরাসায় পড়ার সময় তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরে যুক্ত ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শ্বশুর বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আরও আগে থেকে নিজের বাড়ির সঙ্গে বিচ্ছিন্ন ছিলেন লোকমান।
তিন ভাইয়ের মধ্যে লোকমান সবার ছোট। স্থানীয় কৃষ্ণরায়পুর মাদরাসায় দাখিল পর্যন্ত পড়ালেখা শেষ করে বাড়িতে কৃষি কাজ করতেন তিনি।
এ বিষয়ে লোকমানের ছোট বোন নুর বানু বলেন, ২০০২ সালে বিয়ের পর ৭-৮ বছর ভালোই চলছিল তার। এরপর শ্বশুর বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও প্রায় আট বছর থেকে আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। মৃত্যুর পর মাকে দেখতেও আসেনি লোকমান।
গণমাধ্যমে নাসিরপুরে নিহতদের ছবি প্রতিবেশীরা দেখানোর পর এক পুরুষ ব্যক্তিকে নিজের ভাই মনে করছেন নুর বানু। পাশাপাশি ভাইয়ের মরদেহেও নিতে চাইছেন তিনি।
নাসিরপুরে যে বাড়িতে জঙ্গি আস্তানা ছিল, তার তত্ত্বাবধায়ক পুলিশকে জানিয়েছেন, মাহফুজ নাম জানিয়ে একজন তিন মাস আগে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন।
প্রতিবেশী আফজাল হোসেন ও ফারুক বলেছেন, মাদরাসা পড়ার সময় লোকমান ছাত্রশিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কয়েকবার পুলিশ তার খোঁজে বাড়িতে এলে তিনি উধাও হয়ে যান। সাত বছর আগে তার মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়েও বাড়িতে আসেননি তিনি।
ঘোড়াঘাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসরাইল হোসেন বলেন, লোকমানের নামে ঘোড়াঘাট থানায় কোনো মামলা নেই। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানায় ২০০৮ সালের ২৫ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলা হয়।
এএম/জেআইএম