দেশজুড়ে

বগুড়ায় আ.লীগ নেতার হাতে পৌর মেয়র লাঞ্ছিত

বগুড়া পৌরসভার মেয়র একেএম মাহবুবর রহমানকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। শহরের বড় তিনটি বাজারের ইজারা দরপত্র আহ্বানকে কেন্দ্র করে সোমবার সকালে তার বাসভবনে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করা হবে জানিয়েছেন তিনি।

বগুড়া পৌরসভার মেয়র জানান, শহরের রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার এবং চাষী বাজারের বর্তমান ইজারাদার ও শহর যুবলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন সরকারের উপস্থিতিতে শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি এবং জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। পরে তাকে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়েছে।

পৌরসভার রেকর্ড থেকে জানা গেছে, বাংলা ১৪২৩ সনের জন্য পৌরসভা থেকে শহরের রাজাবাজার, ফতেহ আলী বাজার এবং চেলোপাড়া চাষিবাজার ইজারা নেন শহর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন সরকার। ১৪২৪ সনেও এই ইজারা বহাল রাখার জন্য সম্প্রতি ইজারাদার আব্দুল মতিন সরকার হাইকোর্টে রিট করেন। আদালত আব্দুল মতিন সরকারকে তিনটি বাজারের ইজারাদার বহাল রাখার আদেশ দেন। কিন্তু হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে পৌর মেয়র মাহবুবর রহমান সুপ্রিমকোর্টে লিভ টু আপিল করেন।

আপিলের প্রেক্ষিতে সুপ্রিমকোর্টে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছে বলে দাবি করেছেন মাহবুবর রহমান। তবে এ ব্যাপারে আদালতের আদেশনামা তিনি দেখাতে পারেননি।

এদিকে তিনটি বাজার ১৪২৪ সালের পহেলা বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত নতুন করে ইজারা বন্দোবস্তের জন্য গত ৩১ মার্চ স্থানীয় পত্রিকায় ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন পৌর মেয়র।

এক্ষেত্রে মেয়রের ভাষ্য, পত্রিকায় ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ এবং সুপ্রিমকোর্টে লিভ টু আপিল করায় যুবলীগ নেতা আব্দুল মতিন সরকার তার ওপর ক্ষুব্ধ হন।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য কয়েকদিন ধরেই আব্দুল মতিন মুঠোফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন। কিন্তু শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় তিনি পৌরসভা কার্যালয়ে বসতে পারেননি। এরপর সোমবার তারা শহরের জলেশ্বরীতলা মেয়রের বাড়ি সিপলা ভবনের তৃতীয়তলায় বাসায় আসেন। এসময় যুবলীগ নেতা আব্দুল মতিন সরকার, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নান, কানাইলাল ময়নাসহ ১০/১২ জন ছিলেন।

এ নিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে আব্দুল মান্নান তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। তারা তাকে জীবননাশের হুমকিও দেন।

মেয়র জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হয়েছে। মামলার বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল মান্নান মেয়রকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করাসহ তাকে হুমকি প্রদানের কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করে শহরের তিনটি বাজারের ইজারা বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ করা নিয়ে মেয়রের সঙ্গে শুধু বাক্য বিনিময় হয়েছে। তাকে লাঞ্ছিত করার কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো হুমকিও দেয়া হয়নি।

উল্টো তিনি তাদের কাছে থেকে ইজারা পাইয়ে দেয়ার কথা বলে ৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। আবার মিথ্যা মামলা করে ফাঁসিয়ে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন।

বগুড়া সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদ হোসেন বলেন, বিষয়টি মেয়র মৌখিকভাবে অবহিত করেছেন। তবে বিকেল পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়নি।

এআরএ/পিআর