বগুড়ার ধুনটে মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের পাঁচ নেতাসহ আটজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। ধুনট উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদুল হক বাচ্চু সোমবার থানায় এ মামলা করেন।
মামলা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১২ মার্চ থেকে ধুনট এনইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্থানীয় এনজিও ‘বাতিঘরের’ উদ্যোগে মাসব্যাপী স্বাধীনতা মেলার আয়োজন করা হয়। মেলা শুরুর আগে থেকেই আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। গত ২৭ মার্চ বিকেলে স্বাধীনতা মেলার লটারি বন্ধের দাবিতে মিছিল করার জন্য উদ্যোগ নেয় একটি গ্রুপ। এ জন্য তারা উপজেলা পরিষদ সড়কে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন।
এদিকে, স্বাধীনতা মেলার পক্ষ নিয়ে আওয়ামী লীগের অপর গ্রুপের নেতাকর্মীরা পাল্টা উদ্যোগ নিলে দলীয় কার্যালয়ের সামনে দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরে ধুনট বাজারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনার ছয়দিন পর সোমবার মেলা উদযাপন কমিটির কোষাধ্যক্ষ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদুল হক বাচ্চু বাদী হয়ে চিকাশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলেফ বাদশাহ্, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আলম শ্যামল, পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চপল মাহমুদ, আওয়ামী লীগ নেতা হাসান খসরু খান নূপুর ও পাখি মণ্ডলসহ আটজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন।
আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদুল হক বাচ্চু অভিযোগ করে বলেন, এলাকায় বিনোদনের জন্য এক মাসের অনুমোদন নিয়ে স্বাধীনতা মেলা শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষার কারণে ১০ দিন আগেই মেলা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আর মেলা শুরুর পর থেকেই আওয়ামী লীগ নেতা আলেফ বাদশাসহ কয়েকজন তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিলেন। তাদের দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় তারা আমাকেসহ ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকে মারধর করেন। তাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়া হয়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
তবে মারধর ও চাঁদাবাজির বিষয়টি অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতা আলেফ বাদশা বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা মাসুদুল হক বাচ্চুসহ কয়েক নেতা স্বাধীনতা মেলার নামে কোটি টাকার লটারি বাণিজ্য শুরু করেছিল। এর প্রতিবাদ করায় বাচ্চুর লোকজন আমাকেসহ নেতাকর্মীদের মারধর করেছে।
ধুনট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
লিমন বাসার/আরএআর/পিআর