দেশজুড়ে

বোরো ধানে ব্লাস্ট সংক্রমণ, শুকিয়ে যাচ্ছে শীষ

যশোরের ১৩২ হেক্টর জমির বোরো ধান ছত্রাকজনিত ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত। বৈরি আবহাওয়ার কারণে ধানে ছত্রাকজনিত এ রোগের সংক্রমণ ঘটেছে। এতে ধানের শীষ শুকিয়ে চিটা হয়ে যাচ্ছে। ফলে মাথায় হাত পড়েছে কৃষকের। তারা ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কায় রয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে সোমবার যশোরের জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে ভুক্তভোগী কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছে জাতীয় কৃষক সমিতি জেলা শাখা।

যদিও যশোরের কৃষি বিভাগ বলছে, ঠাণ্ডা-গরম আবহাওয়ার কারণে ব্লাস্ট রোগের সংক্রমণ হয়েছে। এই জেলায় ব্লাস্ট সংক্রমিত প্রায় ১২১ হেক্টর জমির ছত্রাক দমন করা সম্ভব হয়েছে। বাকী জমিতেও দমনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে যশোর জেলায় ১৩২ হেক্টর বোরো জমিতে ছত্রাকজনিত ব্লাস্ট রোগের সংক্রমণ হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে সবচেয়ে বেশি কেশবপুরের ৫১ হেক্টর এবং সবচেয়ে কম চৌগাছায় এক হেক্টর জমি। এছাড়া, যশোর সদরে ছয় হেক্টর, শার্শায় আট হেক্টর, ঝিকরগাছায় ১৭ হেক্টর, অভয়নগরে ৩২ হেক্টর, বাঘারপাড়ায় দুই হেক্টর ও মণিরামপুরে ১৫ হেক্টর আক্রান্ত জমির ধান রয়েছে।

যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, ১৩২ হেক্টর জমির ধান ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়। এরমধ্যে ১২১ হেক্টর জমির ধানের সংক্রমণ দমন করা সম্ভব হয়েছে। বাকী ১১ হেক্টর ধানের সংক্রমণ দমনের চেষ্টা চলছে।এদিকে, ব্লাস্ট সংক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত জমির ধান রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীরের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে জাতীয় কৃষক সমিতি যশোর শাখা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, কৃষকের ইরি-বোরো খেতে হঠাৎ ব্লাস্ট রোগের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। শত শত একর জমির ধান নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার উপক্রম শত শত একর জমির ধান। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের সময়মত পদক্ষেপের অভাবে কৃষকদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তাই নেতৃবৃন্দ কৃষকের হাজার হাজার একর ধানের ফসল রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- জরুরি ভিত্তিতে ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধে বিনামূল্যে কৃষকদের মাঝে ওষুধ সরবরাহ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে ব্লাস্ট রোগ দমনে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে কৃষকদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কৃষক সমিতি কেন্দ্রীয় সদস্য জাকির হোসেন হবি, সংগঠনের যশোর জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি শাহাবুদ্দিন বাটুল, সাংগঠনিক সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ রায়, সদস্য শেখ গফফার হোসেন, কৃষক আবদুল হালিম প্রমুখ।

এ ব্যাপারে যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী হাবিবুর রহমান জানান, মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে রাতে ঠাণ্ডা ও দিনে গরম আবহাওয়া ছিল। ওই সময় তাপমাত্রার পার্থক্য ছিল প্রায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়ার এই তারতম্যের কারণে ওই সময়ে বের হওয়া ধানের শীষ ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের আগাম সতর্ক করা হয়েছিল। যারা পরামর্শমত খেতে ওষুধ ব্যবহার করেছেন তাদের সমস্যা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আমরা কৃষকদের আগাম সতর্ক, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, মসজিদে মাইকিং ও কৃষক সমাবেশ করেছি। প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ফলন বিপর্যয় হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন কাজী হাবিবুর রহমান।

মিলন রহমান/আরএআর/জেআইএম