কিশোরগঞ্জে ভূমিকস্পের সময় আতঙ্কে আব্দুল হেকিম (৬৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুরে সারা দেশের সঙ্গে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পের সময় ঘর থেকে দ্রুত বের হতে গিয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। তিনি বাজিতপুর উপজেলার কৈলাগ গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে।জানা গেছে, শনিবার বেলা ১২টা ১৫ মিনিটে হঠাৎ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এসময় ঘরের আসবাবপত্র, বৈদ্যুতিক তার ও অন্যান্য জিনিসপত্র দুলতে থাকে। জেলার ১৩টি উপজেলায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ সেকেন্ড স্থায়ী আকস্মিক ভূমিকম্পে মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লোকজন ভয়ে ঘর ছেড়ে বাইরে ছুটে আসেন। অনেক এলাকায় নদ-নদী ও পুকুরের পানি ফুলে উঠে।কৈলাগ গ্রামের বাসিন্দা মাহবুব কামাল জানান, তার প্রতিবেশী আব্দুল হেকিম দুপুরে খাওয়ার পর নিজের ঘরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এসময় ভূমিকম্প শুরু হলে বাড়ির লোকজন আতঙ্কে ছুটতে থাকেন। বৃদ্ধ আব্দুল হেকিম ভয়ে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ানোর সময় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।কৈলাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হান্নান মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত সাহা জানান, তাদের কাছে এ রকম কোন তথ্য নেই। এ দিকে ভূমিকম্পে জেলার বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু স্থাপনায় ফাটল দেখা দিয়েছে।জেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. গোলাম মাওলা জানান, ভূমিকম্পে তাড়াইলে একটি স্কুলের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া শহরের গাইটাল এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের বৈদ্যুতিক পাখা ভেঙ্গে পড়ে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। শহরের একটি মসজিদের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।এমজেড/আরআই