দু’দফা ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই রোববার দুপুরে আবারও ভুমিকম্পে কেঁপে ওঠে সারাদেশ। দুপুর ১টা ১১মিনিটের সময় প্রায় ৩২ সেকেন্ড স্থায়ী এ ভুমিকম্পে শেরপুর সদর উপজেলার বেতমারী গ্রামে একজন নিহত ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় আরও দুইজন আহত হয়েছে। নিহত হায়দার আলী ওরফে নান্টু (৭২) বেতমারি-ঘুঘুরাকান্দি ইউনিয়নের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।বেতমারি-ঘুঘুরাকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রফিক জানান, আবারও ভূমিকম্প হচ্ছে এমন খবর শুনে নিজ ঘর থেকে দৌঁড়ে বের হতে গিয়ে পড়ে যায়। এতে জ্ঞান হারিয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। ইউপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, নিহত হায়দার আলী বেতমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও তিন সন্তানের জনক।শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাবীবুর রহমান হাবীব বলেন, রোববারের ভূমিকম্পের সময় ঘর থেকে বের হতে গিয়ে আতঙ্কে হার্ট অ্যাটাকে বেতমারী গ্রামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।এদিকে, ভূমিকম্প শুরু হওয়ার সময় নালিতাবাড়ী শহরের গরকান্দা মহিলা আলিম মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণির ছাত্রী এলিনা বেগম দৌড়ে বের হওয়ার সময় এবং হিরন্ময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ইসরাত জাহান পারভিন দোতালা থেকে দৌড়ে নামার সময় পড়ে গিয়ে আহত হন। পরে তাদেরকে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরী বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হয়।এদিকে ভূমিকম্প শুরু হওয়ার সাথে সাথে লোকজনের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সকলেই বাসাবাড়ী, অফিস কক্ষ, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ছেড়ে রাস্তায় নিরাপদ স্থানে নেমে আসে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্লাশ ছেড়ে বাইরে খোলা জায়গায় চলে আসে। এ সময় কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা ভয়ে কেপে উঠে এবং অনেকেই কান্না শুরু করে। এছাড়া ভূমিকম্পের সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।উল্লেখ্য, শনিবার নেপালে রিখটার স্কেল ৭ দশমিক ৯ মাত্রায় ভূমিকম্পন অনুভূত হয়। যার ফলে নেপালসহ ভারত, বাংলাদেশ ও ভূটানেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়। আজকের (রোববার) ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলও ছিল নেপালে। যা ঢাকার আগারগাঁওয়ের ভূ-পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে ৬১২ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ছিল বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।আরএস/আরআই