বগুড়ায় পহেলা বৈশাখের উৎসব ঘিরে নানা আয়োজন করেছে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। এসবের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ।
দিনব্যাপী বিভিন্ন ধরনের গানে গানে নববর্ষ বরণের এই উৎসব চলছে। শহরের সাতমাথায় গানে গানে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে দিন বদলের মঞ্চ নামের একটি সংগঠন দিনভর অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সকালে দিন বদলের মঞ্চের সভাপতি ফিরোজ হামিদ খান রেজভীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অজয় সাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর চলে গানে গানে বর্ষবরণের পালা। প্রথমেই উদীচী সংগীত বিদ্যালয়ের শিশু শিল্পীরা পরপর বেশ কয়েকটি দলীয় সংগীত পরিবেশন করে।
এর মধ্যে ‘এসো এসো এসো হে বৈশাখ, ‘আইলো রে বৈশাখ, আইলো নতুন এক বৈশাখ’, ‘আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে, কি আনন্দ আকাশে বাতাসে’, এই দিন দিন না আরও দিন আছে, এই দিন নিয়ে যাবে সেই দিনের কাছে’।
তারপর পহেলা বৈশাখ নিয়ে শিল্পীরা একের পর এক একক সংগীত পরিবেশন করতে থাকেন। সপ্তস্বর, সুরের ছোঁয়া, প্রকাশ শৈলী ও চর্চা সাংস্কৃতিক একাডেমি শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা নতুন বছরকে বরণ করে নিতে বিভিন্ন গান পরিবেশন করেন।
এদিকে, বাংলা বর্ষবরণের একটি অন্যতম আয়োজন মঙ্গল শোভাযাত্রা। প্রত্যেক বছর পহেলা বৈশাখের এই দিনটিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বের করা হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।
বগুড়া জিলা স্কুল মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌরপার্কে গিয়ে শেষ হয়।
বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে চলতে থাকে শোভাযাত্রা। বহন করা হয় বিভিন্ন ধরনের প্রতীকী শিল্পকর্ম। থাকে বাঙালি সংস্কৃতির পরিচয়বাহী নানা প্রতীকী উপকরণ, রঙবেরঙয়ের মুখোশ ও নানা প্রাণির প্রতিকৃতি।
শোভাযাত্রায় অংশ নেয়া শিশু কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নানা বয়সী মানুষের হাতে শোভা পাচ্ছিল বাঙালি জাতির পরিচয় বহনকারী না প্রতিকৃতি।
শোভাযাত্রায় জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বিপিএম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান মজনু, বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক করতোয়ার সম্পাদক মোজাম্মেল, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি তৌফিক হাসান ময়না প্রমুখ অংশ নেন।
পহেলা বৈশাখের অন্যতম আকর্ষণ হলো বৈশাখী মেলা। প্রত্যেক বছরের মতো এবারও বগুড়া থিয়েটারের উদ্যোগে বগুড়া পৌরপার্কে পাঁচ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী এই মেলায় থাকছে মঙ্গল শোভাযাত্রা, মঙ্গলপত্রপাঠ, মঙ্গলগীত, পুতুল নাচ, পালাগান, লালনগীতি, আঞ্চলিক গান, বিয়ের গীত, পান্তা উৎসব, লাঠি খেলা, পাতা খেলা, সাপ খেলা, মোরগ লড়াই, হাডুডু, ঘুড়ি উড়ানো, নৃত্য, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুল সংগীত, লোকজ সংগীত, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আবৃত্তি, একক অভিনয় প্রতিযোগিতা ও নাটক।
বগুড়া থিয়েটারের পক্ষে সিজুল ইসলাম জানান, এবারে মেলার বিভিন্ন আয়োজনের অন্যতম স্পন্সর দেশের শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। তাদের সৌজন্যে বিকেলে আরএফএল মুরগির খাঁচা মোরগ লড়াই খেলা অনুষ্ঠিত হবে।
এই খেলাটি বৈশাখী মেলার অন্যতম আকর্ষণ। মেলা প্রাঙ্গণে প্রাণ-আরএফএল-এর বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন ছাড়াও প্রাণ ম্যাক্সকোলা, প্রাণ দই ও প্রাণ-এর বিভিন্ন পণ্যের আউটলেট রয়েছে। এসব দোকানে মানুষের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া মেলার মূল মঞ্চের সাজসজ্জার কাজও করা হয়েছে প্রাণ-এর ম্যাক্সকোলার সৌজন্যে।
থিয়েটারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিদিন পৌরপার্কে গ্রামীণ ও লোকজ খেলা অনুষ্ঠিত হবে বিকেল ৩ টায়, আর ওস্তাদ আলাউদ্দিন মুক্তমঞ্চে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টায় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিকেল ৪টা থেকে অনুষ্ঠিত হবে। উডবার্ণ অডিটোরিয়ামে প্রতিদিন চলবে প্রতি ঘণ্টায় পুতুল নাচ শো।
এছাড়া শহীদ টিটু মিলনায়তনে থাকবে নাগরদোলাসহ বিভিন্ন ধরনের স্টল। দেশের দূর-দুরান্ত থেকে মৃৎ আর কারুশিল্পীরা প্রত্যেক বছর এই মেলায় অংশ নেন।
লিমন বাসার/এএম/পিআর