নওগাঁর মান্দায় ইটভাটার গ্যাস বিস্ফোরণে প্রায় ১০০ বিঘা জমির ধানসহ ফসল নষ্ট হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে কৃষকদের মাথায় হাত উঠার উপক্রম হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার কাশোপাড়া ইউনিয়নের কুলিহার গ্রামের ফেলু প্রামানিকের ছেলে আবদুল খালেক প্রামানিক জলছত্র-পাঁজরভাঙা রাস্তার কুলিহার মোড়ে ফসলি জমির মধ্যে গত দুই বছর থেকে এসইপি নামে একটি ইটভাটা স্থাপন করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন।
এ বছরের শেষ দিনে গত সোমবার সকালে সব হিসাব-নিকাশ করে ফায়ারম্যান শরীয়তপুরের আল আমিন ও ইট পোড়ানো ছয়জন শ্রমিকদের মজুরি প্রদান করেন।
দুপুরে একটি ভোজের আয়োজন করেন ভাটা মালিক। খাওয়া-দাওয়া শেষে ফায়ারম্যান আল আমিন ও ইট পোড়ানো শ্রমিকরা বিদায় নেন। এদিকে বিকেল ৪টার দিকে ফায়ারম্যান ইটভাটার (ভ্যাকুয়াম/কানেকটিং) গ্যাস ছেড়ে দেন।
হঠাৎ করে দ্রুত গতিতে ১০৫ ফুট চিমনি দিয়ে গ্যাস নির্গত হতে থাকে। ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার ফসলে এ গ্যাসের প্রভাব পড়ে।
নির্গত গ্যসের চাপে ও আগুনে আশপাশেও প্রায় ১০০ বিঘা জমির বোরো ধান, আখ, পাট, তিল, আমবাগান, কলা বাগান, লিচু, আমড়া গাছ, জলপাই, নারকেল গাছসহ অন্যান্য ফসলের গাছপালা পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়।
এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। মঙ্গলবার ভাটা মালিক আবদুল খালেক প্রামানিক এসব ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিতে প্রতিশ্রতি দিয়েছেন। তবে তিনি ক্ষমতাশালী হওয়ায় অনেক কৃষক ক্ষতিপূরণ পাবে কিনা এ নিয়েও কৃষকদের সন্দেহ রয়েছে।
ওই গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, সকালে জমিতে গিয়ে দেখি ধানের গাছ শুকিয়ে গেছে। আশপাশের জমির ধানের অবস্থাও একই রকম। ভাটার মালিককে এ বিষয়ে জানানো হলে তিনি ক্ষতিপূরণ পুষিয়ে দেবেন বলে জানান। তবে ক্ষতিপূরণ পাবো কিনা তা নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে।
ভাটার ম্যানেজার উজ্জল হোসেন জানান, গত বছর আবদুল খালেক প্রামানিক তার ইটভাটাটি স্থাপন করেন। গত বছর প্রায় ১৫ লাখ ও বর্তমান বছরে প্রায় ২০ লাখ পিস ইট পোড়ানো হয়। বছর শেষে মালিকের সঙ্গে হিসাব-নিকাশ শেষে এমন ঘটনা জানতে পারি।
ইটভাটার মালিক আবদুল খালেক বলেন, মিস্ত্রি ভুল করে গ্যাস ছাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। তবে কৃষকদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।
আব্বাস আলী/এএম/জেআইএম