দেশজুড়ে

বাঁকখালীর তীর দখলে প্যারাবনে টিনের ঘেরা

কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর তীর দখলে এবার প্যারাবনে টিনের ঘেরা দিয়ে গাছ ও মাটি ভরাট চলছে। গত কদিন ধরে বাঁকখালীর কস্তুরাঘাট এলাকায় প্যারাবনে টিনের ঘেরা টেনে, কেটে ফেলা হচ্ছে বাইনগাছ। আর সেখানেই প্লট তৈরি করে বিক্রি করা হচ্ছে সরকারি জমি।

খবর পেয়ে গত বুধবার বিকেলে অভিযান চালিয়েছে পরিবেশের টিম। তারা মাটি ও গাছ কাটাকালে ৫ শ্রমিককে আটকও করে। কিন্তু বেপরোয়া দখলবাজরা সেই টিমের উপর হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নিয়েছে আটক শ্রমিকদের।

প্রশাসনের অসহায় টিম চলে এলেও থামেনি ম্যানগ্রোভ বন কাটা ও দখল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অনবরত গাছ ও মাটি কেটে প্লট তৈরির মহাযজ্ঞ চলছেই।

তবে অভিযানকারিদের উপর হামলার ঘটনায় মামলা করার কথা থাকলেও রাতে মোটা অংকের টাকায় রফাদফা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে পুরো জেলা প্রশাসন ব্যস্ত থাকায় মামলা করতে পারছেন না বলে দাবি পরিবেশ অধিদফতরের কক্সবাজার অফিসের কর্মকর্তাদের। ফলে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে দখলযজ্ঞ সম্প্রসারিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতনরা।

অভিযোগ মতে, আব্দুল খালেক নামের চিহ্নিত এক ভূমিগ্রাসী দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকার সরকারি সম্পদ জবর দখল ও প্যারাবন নিধনযজ্ঞে লিপ্ত। শুধু তাই নয় জেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় উক্ত ভূমিগ্রাসী ইতোমধ্যে সেখানকার অনেক সরকারি জমি প্লট আকারে বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রির পাশাপাশি বাড়ি তৈরি করে ভাড়া দিয়ে চলেছেন।

এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অপরাধে মামলা ও অভিযোগ থাকলেও আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে প্রশাসনের কোনো কর্তৃপক্ষই তাকে থামাতে পারেনি। বরং দিন দিন তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে প্যারাবন কেটে সরকারু জমি ভোগদখল ও বেচাবিক্রি অব্যাহত রেখেছেন।

পরিবেশ অধিদফতর কক্সবাজার অফিসের সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম জানান, পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে প্যারাবন নিধন ও মাটি কাটার অভিযোগে অভিযান চালানোর পর ঘটনাস্থল থেকে ৫ শ্রমিককে আটক করা হয়। কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে তারা অতর্কিত আমাদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে ধৃতদের ছিনিয়ে নেয়।

তিনি আরো বলেন, আমি উপর মহলকে বিষয়টি জানিয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে সবাই ব্যস্ত থাকায় তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয়া যায়নি। এর কারণ হিসেবে বলেন জবরদখলকারি আবার আওয়ামী লীগের ব্যানারের আড়ালে থাকে। তাই হুট-হাট কিছুই করা যাচ্ছে না।

রাতে রফাদফা ও বৃহস্পতিবার আবোরো প্যারাবন কাটার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রফাদফার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন অবশ্যই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/এমএস