আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে জেল হাজতে গেছেন নরসিংদী জেলা পরিষদের সদস্য নাজিউর রহমান নাজির। সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জ আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিতে গেলে তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠান আদালত।
এর আগে গত ২৯ এপ্রিল ‘নিজের সাজা ভোগ ভাড়াটে দিয়ে’ শিরোনামে খবর প্রকাশের পর প্রশাসনে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।
নরসিংদী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়। ওই কমিটির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে নাজিরের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা। সেই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনও নারায়ণগঞ্জের সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আদালতে একজন আইন কর্মকর্তা বলেন, নাজির আদালতের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। অন্যকে দিয়ে টাকার বিনিময়ে জেল খাটিয়ে নিজে বাঁচতে চেয়েছেন। এমন ঘটনা জানাজানি হলে আদালত তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠায়। ভবিষ্যতে নাজির জামিন পেতে কষ্ট হবে বলে জানান তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নরসিংদী জেলা পরিষদের সদস্য নাজিউর রহমান নাজিরের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের আদালত।
কাগজে-কলমে সেই মামলায় জেলও খাটেন নাজির। কিন্তু শারীরিকভাবে তিনি জেল খাটেননি। তার বদলে জেল খাটেন পটুয়াখালীর কলাপাড়ার দরিদ্র অটোরিকশাচালক তাজিম জমাদ্দার।
নাজিরের বিরুদ্ধে জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গঠিত কমিটির তদন্তেই বেরিয়ে এসেছে অভিযোগের সত্যতা।
নাজিরের প্রতারণা প্রসঙ্গে সিরাজুল ইসলাম মোল্লা বলেন, নাজির প্রতারণা করে এক জমিতে তিন বারও বিক্রি করে পিপলস ইউনিভার্সিটির কাঠে বিক্রি করেছে। তার প্রতারণার কারণেই পথে বসেছে। তারা জালিয়াতির বিষয়ে অনেকেই অভিযোগ করেছেন।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হানিফ মিয়া বলেন, বাবার জমিতে আমরা দুই ভাই ওয়ারিশ। আমার বড় ভাইয়ের কাছ থেকে জমি কিনলেও আমার কাছ থেকে না কিনেই বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করে ভবন নির্মাণ করেছে। নাজির প্রতারণা করে আমাদের টাকা খেয়ে ফেলেছে।
এ প্রসঙ্গে নরসিংদীর পুলিশ সুপার আমেনা বেগম গণমাধ্যমকে বলেন, অন্যকে দিয়ে জেল খাটানোসহ নাজিরের বিরুদ্ধে অন্যান্য অনিয়মের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। আদালতে জালিয়াতির বিষয়টি যেহেতু আমাদের নরসিংদীর ঘটনা নয়, নারায়ণগঞ্জের। তাই ওই জেলার সংশ্লিষ্ট দফতরেও প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়েছে।
শাহাদাত হোসেন/এএম/আরআইপি