শত বছরের পুরানো তাড়াশের বিনসাড়া হাটের জায়গা প্রভাবশালীরা দখলে নিয়ে ঘর তৈরি করায় তাড়াশ-রানীরহাট আঞ্চলিক সড়কে ঝুঁকির মধ্যে বসছে ধানের হাট।
হাটের জায়গা দখল হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকিতে রাস্তার ওপর বছর জুড়ে চলছে ধান কেনাবেচা। স্থানীয় জনসাধারণ ও ব্যবসায়ীরা দুর্ঘটনার আশঙ্কার মধ্যে চলাচল করছেন।
আঞ্চলিক সড়কের উপর ঝুঁকি নিয়ে ধান ক্রয়-বিক্রয়ের কারণে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট বড় নানা দুর্ঘটনা। তাদের দাবি বিনসাড়া বাজারের এই ধানের হাট দ্রুত স্থানান্তর করে হাটের নির্দিষ্ট জায়গায় বসানোর জন্য। এদিকে মালিকানা ঠিক রাখার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে লোক দেখানো ছোট-বড় প্রায় অর্ধ শতাধিক দোকান ঘর।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাড়াশ উপজেলার বিনসাড়া গ্রামে তাড়াশ-রানীরহাট রাস্তার পাশে সপ্তাহে রোববার ও বুধবার বিনসাড়া হাট বসতো। বিনসাড়া, আসানবাড়ি, কাজিপুর, বলভা, শিবপুর, পেঙ্গুয়ারি, মালশিন, বস্তুল, পালাশি, কহিত, কুসুম্বীসহ আশপাশের আরও ১০ গ্রামের হাজারো মানুষের আনাগোণা হয় এই বিনসাড়া হাটে।
কৃষি প্রধান চলনবিলের তাড়াশ উপজেলার সব থেকে বড় ধানের হাট বিনসাড়া। শত বছরের পুরানো তাড়াশের বিনসাড়া হাটের জায়গা প্রভাবশালীরা অবৈধ দখলে নিয়ে ঘর তৈরি করায় জায়গা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে দূর থেকে আসা অনেক ব্যবসায়ী। অথচ হাটের মূল জায়গায় ভাঙা-চুরা ছোট বড় ঘর উঠিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। মালামাল দোকান বিছিয়ে বসার জায়গা না থাকায় অনেকে বসে পড়েছেন অন্যের জায়গা আর পতিত জমির মধ্যে।
হাটে আসা ভাসমান দোকানদার শামসুল আলম, আনোয়ার হোসেন, মোজাম্মেল হক ও এনামুল হক সবুজ জানান, দোকান নিয়ে বসার জায়গা না থাকায় অন্যের জায়গা-জমি বা রাস্তায় উপর দোকান বিছাতে হচ্ছে। কোনো কোনোদিন হাটে বসার জায়গা না পেয়ে ফিরে যায় অনেক দোকানি।
এ বিষয়ে হাটের ইজারাদার মো. আব্দুস সালাম (ভুট্টু) জানান, দোকানিদের দোকান নিয়ে বসার জায়গা প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় হাটের বেচাকেনা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। হাটের জায়গা অবৈধ দখলমুক্ত করে স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরানোর জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত দখলমুক্ত করা না হলে জায়গা সংকটে একেবারে বন্ধ হয়ে যেতে পারে প্রাচীন এই বিনসাড়া হাট।
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ মনসূর উদ্দিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইউসুফ দেওয়ান রাজু/এমএএস/আরআইপি