দেশের দক্ষিণাঞ্চলের তিন জেলায় একটি প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকের মাঠে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগ করে ধান উৎপাদন শতকরা ১২ ভাগ বেড়েছে। সেই সঙ্গে প্রায় ৩০ হাজার কৃষকের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে অবদান রাখা সম্ভব হয়েছে।
ব্রির বাস্তবায়নাধীন পিরোজপুর-গোপালগঞ্জ-বাগেরহাট সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের (পিজিবি-আইএডিপি) সমাপনী কর্মশালায় বক্তারা এ বিষয়ে আলোকপাত করেন এবং রোববার গাজীপুরে ব্রির ভিআইপি সম্মেলন কক্ষে এক কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রির মহাপরিচালক ড. ভাগ্য রানী বণিক। এতে সভাপতিত্ব ও মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিজিবি-আইএডিপি (ব্রি অঙ্গ) এর প্রকল্প পরিচালক ড. মো. খায়রুল আলম ভূঁইয়া।
কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্রির পরিচালক (প্রশাসন ও সাধারণ পরিচর্যা) ড. মো. শাহজাহান কবীর ও ব্রির পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. আনছার আলী।
এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্রির কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রধান ড. মো. গউছ আলী। ব্রির বিজ্ঞানী, কৃষি সম্প্রসারণবিদ, বারি, এসআরডিআই, বিএডিসি, ডিএএমএর বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাবৃন্দ এবং কৃষকসহ প্রায় ১০০ প্রতিনিধি কর্মশালায় যোগ দেন।
কর্মশালার বিভিন্ন উপস্থাপনা থেকে জানা যায়, প্রকল্প এলাকার কৃষকের মাঝে গত পাঁচ বছরে প্রায় ২০ টন বীজ বিতরণ করা হয়েছে। সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করে ধানের ১৪ ভাগ পর্যন্ত ফলন বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। ধানের আগাছা দমনের সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্রি উইডার বা আগাছানাশক ব্যবহার করে বিঘা প্রতি ১০০০-১২০০ টাকা সাশ্রয় করা যাবে বলে ধান বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণালব্ধ ফলাফল প্রকাশ করেন।
ধান চাষে যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে একদিকে যেমন ৫০-৬০ ভাগ শ্রমিক খরচ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে তেমনি অন্যদিকে ৯-১০ ভাগ ধানের ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে।
এছাড়া ধানের ব্লাস্ট, খোলপোড়া রোগ ও লাল কেঁচোর সংক্রমণের মতো সমস্যা দক্ষিণাঞ্চলের ধান ও বীজ উৎপাদনে প্রধান অন্তরায়। সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা যেমন ট্রাইকো কম্পোস্ট প্রয়োগের মাধ্যমে এ সমম্যা নিয়ন্ত্রণ করে কৃষকেরা অধিক ধান ও মানসম্পন্ন বীজ ঘরে তুলতে সক্ষম হচ্ছেন।
মো. আমিনুল ইসলাম/এএম/জেআইএম