হবিগঞ্জের মাধবপুরে সোনাই নদী দখল করে সায়হাম ফিউচার পার্ক নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। শনিবার সকাল ১১টায় শহরের এম. সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ধারণা বক্তব্য রাখেন খোয়াই রিভার ওয়াটার কিপার ও জেলা বাপা`র সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল। এতে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন বাপা সহসভাপতি অধ্যাপক আবিদুর রহমান, প্রেসক্লাব সভাপতি শোয়েব চৌধুরী, ব্যাক`স সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন আহমেদ, বাপা যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান নিয়ন, সিদ্দিকী হারুন, নদী ও জলাশয় রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব চৌধুরী আহসানুল হক সুজা, অ্যাডভোকেট বিজন বিহারী দাশ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি কর্মী আসমা খানম হ্যাপি, নায়েবের পুকুর রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম চৌধুরী, সমন্বয়কারী আব্দুর রকিব রণি প্রমূখ। বক্তারা বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এক এক করে হারিয়ে যাচ্ছে এককালের খরস্রোতা নদীগুলো। মাধবপুরের সোনাই নদীও আজ দখলদারদের অপতৎপরতায় হারিয়ে যেতে বসেছে। সোনাই নদীর বিশাল একটি অংশ ভরাট করে সায়হাম ফিউচার কমপ্লেক্স নির্মাণ করতে চলেছে একটি শিল্প পরিবার। নদীটি হারিয়ে গেলে পরিবেশ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে মাধবপুর তথা হবিগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা। তাই সোনাই নদী ভরাট করে কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রতিবাদে পরিবেশ সচেতন সকল মানুষকে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।উল্লেখ্য, ২০১১ সালে মাধবপুরে সোনাই নদীর একটি অংশে সায়হাম গ্রুপ `সায়হাম ফিউচার কমপ্লেক্স` নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। তখন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সভা-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য আন্দোলন শুরু করে। এর প্রেক্ষিতে জাতীয় নদী টাস্কফোর্সের সভায় সোনাই নদীর ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে নদীর স্বাভাবিক নদীপথ সচল রাখার ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরবর্তীতে দফায় দফায় সভায় নির্মাণ কাজ স্থগিত করে পানি আইনের আওতায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে এসব সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। উপরন্তু সম্প্রতি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন ফিউচার কমপ্লেক্স নির্মাণের পক্ষে একটি প্রতিবেদন দেয়।সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এমজেড/আরআইপি