দেশজুড়ে

জালকুড়িতে চেকপোস্টের নামে পুলিশের চাঁদাবাজি ও হয়রানি

নারায়ণগঞ্জের জালকুড়িতে চেকপোস্টের নামে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজি ও অশোভন আচরণ করে মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অটোরিকশা থেকে শুরু করে প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে চেক করার নামে চলছে অহেতুক হয়রানি।

শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের জালকুড়ি বাসস্ট্যান্ডের সামনে চেকপোস্ট বসিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটাতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জাললকুড়ি চেকপোস্টে ডিউটিরত পুলিশের এসআই বেলায়েত ডিউটি ফাঁকি দিয়ে পাশের ফার্নিচারের দোকানে বসে স্থানীয় সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে সময় পার করছে আর কনস্টেবল দিয়ে করাচ্ছে অনৈতিক কর্মকাণ্ড। এমনকি চেকপোস্টে কনস্টেবলদের টাকা রুজি করার টার্গেট দিয়ে দেয়া হয় বলেও জানা গেছে। তাই এসআই বেলায়েতের টার্গেট পূরণ করতে কনস্টেবলরাও হয়ে যায় বেপরোয়া।

অভিযোগ রয়েছে, এসআই বেলায়েত বরিশালের বাসিন্দা হলে নিজেকে গোপালগঞ্জে দারোগা বলে জাহির করে মানুষের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে।

চেকপোস্টে হয়রানির শিকার আউয়াল জানান, তিনি রেন্টকারে প্রাইভেটকার চালান। শুক্রবার সন্তানসহ এক দম্পতিকে নিয়ে নরসিংদী যান। রাতেই ফিরে আসেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়। পথিমধ্যে রাত সাড়ে ১১টায় জালকুড়ি চেকপোস্টে পুলিশ প্রাইভেটকারটিকে সিগনাল দেয়। গাড়িটি সাইড করার পর গাড়িতে থাকা স্বামী-স্ত্রীকে নামতে বলেন। নারীটি গর্ভবতি হওয়ায় তিনি গাড়ি থেকে নামেনি কিন্তু তার স্বামী নেমে চেক করার জন্য সুযোগ করে দেয়। কিন্তু কনস্টেবল গাড়ি চেক না করে তাদের সঙ্গে নানা ধরনের তালবাহানা করতে থাকে।

পুলিশের আচরণ দেখা মনে হলো, তারা গাড়িটি আটক করেছে চেক করার জন্য না। একপর্যায়ে সেই পুলিশ সদস্য হাতে সিগারেট নিয়ে গাড়ির ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। এতে ওই নারীর স্বামী পুলিশকে সিগারেট ফেলে গাড়ির ভেতরে গিয়ে চেক করার অনুরোধ করেন।

এ কথা বলার পর পুলিশ ওই ব্যক্তির উপর উত্তেজিত হয়ে খারাপ আচরণ করতে থাকে। এসময় স্বামীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করার কারণ জানতে চাইলে ওই পুলিশ তার সঙ্গেও খারাপ আচরণ করে। পরে পুলিশের কনস্টেবল তাকে টেনে নিয়ে যায় অন্ধকারে বসে থাকা এসআই বেলায়েতের কাছে।

এসময় বেলায়েত ঘটনার বিষয় শুনে কিছু না বলে উত্তেজিত হয়ে যায়। পরে নিরুপায় হয়ে গাড়ির যাত্রী নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেয়। সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পর এসআই বেলায়েত ও কনস্টেবল খারাপ আচরণ করে তাড়িয়ে দেয়।

এলাকাবাসী জানান, জালকুড়ি চেকপোস্টে যেদিন এসআই বেলায়েত ডিউটি করেন ওইদিন জালকুড়ি ফার্নিচারের দোকানে স্থানীয় সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের আড্ডা জমে ওঠে। সেদিন জালকুড়ি চেকপোস্টে অপরাধ দমন হয় না বরং অপরাধীদের মদদ দেয় পুলিশ।

এসপি সাহেব উদ্যোগ নিয়ে চেকপোস্ট বসালেও যারা ডিউটি করে তারা চাঁদাবাজি আর মানুষকে হয়রানি করছে।প্রতিদিন এ চেকপোস্টে বহু মানুষকে হয়রানি করা হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করে না। যার কারণে পুলিশও হয়ে উঠেছে বেপরোয়া।

এদিকে শুধু জালকুড়ি নয়, নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড, হাজীগঞ্জ, স্টেডিয়াম, কাশিপুর, পাগলা তালতলা, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আড়াইহাজার, ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁওসহ বিভিন্ন চেকপোস্টে ডিউটিরত পুলিশ চেকপোস্টের নামে চাঁদাবাজিসহ মানুষকে করছে অহেতুক হয়রানি। টেকপোস্টগুলোতে অপরাধ দমন ও অবৈধ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের কোনো বালাই নেই।

জালকুড়ি চেকপোস্টে পুলিশের চাঁদাবাজি ও মানুষের হয়রানির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক অঞ্চল) শরফুদ্দিনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, এমন অভিযোগ অনেকে করেন তবে কেউ যদি সুর্নিদিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, শুক্রবার রাতে এক সাংবাদিক ও তার স্ত্রীর সঙ্গে জালকুড়ি চেকপোস্টের পুলিশ খারাপ আচরণ করেছে এমন একটি মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। তবে সাংবাদিক যদি লিখিত অভিযোগ করেন তাহলে ডিউটিরত এসআই বেলায়েত ও কনস্টেবলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শাহাদাত হোসেন/এফএ/এমএস