দেশজুড়ে

অপহরণের কারণ জানতে চাইলে ‘চুপ থাক’ বলে ধমক দিতো

ঢাকা থেকে ‘অপহৃত’ ডা. ইকবাল মাহমুদ সুস্থ অবস্থায় বাসায় ফিরে বলেছেন, মাইক্রোবাসে তুলেই তার চোখ বেঁধে ফেলা হয়। এই ৭ মাস ১৭ দিন চোখ-হাত বাঁধা অবস্থায় একটি কক্ষেই রাখা হয়েছে।

এ সময় নিয়মিত খাবার দেয়া হতো। খাবারের সময় শুধু হাত খুলে দেয়া হতো। কেউ মারধর করেনি। আটকের কারণ জানতে চাইলে ‘চুপ থাক’ বলে ধমক দেয়া হতো। এ সময়ে কোনো বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি। তবে তিনি কোথায় ছিলেন, কী কারণে অপহরণ করা হয়েছে- সে সর্ম্পকে নিশ্চিতভাবে কিছুই জানাতে পারেননি তিনি। বৃহস্পতিবার (১ জুন) দুপুরে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সাড়ে সাত মাস পর বুধবার (৩১ মে) রাত সোয়া ১১টার দিকে তিনি লক্ষ্মীপুর হাসপাতাল সড়কের বাসায় ফিরেন। এর আগে তাকে রাত ১১ টার দিকে রায়পুর-লক্ষ্মীপুর সড়কের নতুন গো-হাটা এলাকায় কে বা কারা তাকে চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে যায়। পরে তিনি একটি অটোরিকশা করে বাসায় ফেরেন।

২৮তম বিসিএস পাস করা ইকবাল মাহমুদ লক্ষ্মীপুর শহরের হাসপাতাল সড়কের মুক্তিযোদ্ধা একেএম নুরুল আলমের ছেলে। তিনি মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিকিৎসা কর্মকর্তা ছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৪ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে ইকবাল লক্ষ্মীপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া রয়েল কোচে ঢাকায় রওয়ানা হন। তিনি ঢাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যানেসথেশিয়ার ওপর দুই মাসের প্রশিক্ষণের জন্য যাচ্ছিলেন। রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে ঢাকার সাইন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় বাস থামলে তিনি নামেন।

সেখানে সিসি ক্যামেরায় ধারণ হওয়া একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বাস থেকে নামার পর কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ইকবালকে ঘিরে কথা বলছেন। এরপর তাকে দ্রুত একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয়া হয়। এর পেছন দিয়ে পুলিশের একটি পিকআপভ্যান যেতে দেখা যায়। এ ঘটনায় ১৬ অক্টোবর রাতে ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন তার বাবা।

রাতে ছেলেকে বাসার দরজায় দেখে প্রথমে বিশ্বাস করতেই পারেননি বলে জানিয়েছেন তার বাবা নুরুল আলম। তিনি বলেন, ছেলে সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। এর চেয়ে বড় আনন্দ আর নেই। এ জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই।

কাজল কায়েস/এএম/জেআইএম