নওগাঁ জেলায় আউশ চাষে কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন। সরকারের প্রণোদনা প্রদান এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী আউশ চাষের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিগত কয়েক বছর ধরে ক্রমান্বয়ে জেলায় আউশ চাষের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার সার, বীজ ও কীটনাশক এবং নগদ অর্থ প্রণোদনা হিসেবে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করছে। এ বছর ১ কোটি ২৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন উপকরন বিতরণ করা হয়।
নওগাঁ জেলায় চলতি আউশ মৌসুমে মোট ৬১ হাজার ৭৬৭ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। এর মধ্যে উন্নত ফলনশীল জাতের ৬১ হাজার ৬৭ হেক্টর এবং হাইব্রিড জাতের ৭০০ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কৃষি বিভাগ সার্বক্ষণিক নজরদারী রাখছে এবং কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা ভিত্তিক নির্ধারিত আউশ চাষের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে নওগাঁ সদর উপজেলায় ৫ হাজার ৭০ হেক্টর, রানীনগর উপজেলায় ৩ হাজার ২২০ হেক্টর, আত্রাই উপজেলায় ২ হাজার ৫৮০ হেক্টর, বদলগাছি উপজেলায় ৯২৫ হেক্টর, মহাদেবপুর উপজেলায় ১০ হাজার ৬২ হেক্টর, পত্নীতলা উপজেলায় ৬ হাজার ৭৬৫ হেক্টর, ধামইরহাট উপজেলায় ২ হাজার ৭৭০ হেক্টর, সাপাহার উপজেলায় ৩ হাজার ৪৫০ হেক্টর, পোরশা উপজেলায় ১ হাজার ১৬০ হেক্টর, মান্দা উপজেলায় ১৬ হাজার ৮৩০ হেক্টর এবং নিয়ামতপুর উপজেলায় ৮ হাজার ৯৩৫ হেক্টর জমি।
প্রতিজন কৃষককে বীজ ৫ কেজি, ইউরিয়া সার ২০ কেজি, ডিএপি ১০ কেজি, এমওপি ১০ কেজি ও পরিচর্যা বাবদ ৪০০ টাকা। এছাড়া নিরিকা আউশ চাষে সম পরিমাণ সার ও বীজ এবং পরিচর্যা বাবদ ৪০০ টাকা ও সেচ খরচ ৪০০ টাকা প্রণোদনা দেয়া হয়।
আত্রাই উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের কৃষক সাখাওয়াত হোসেন, নাসির উদ্দিন এবং শাহাগোলা গ্রামের তসলিম উদ্দিন ও জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রান্তিক কৃষক হিসেবে সরকার আমাদের কৃষি উপকরণ দিয়েছে। এছাড়া স্বল্প সময়ে উন্নত জাতের ফসল উৎপাদনে কৃষি বিভাগ থেকে সার্বক্ষণিক তদারকি ও সহযোগিতা করেছেন।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মনোজিত কুমার মল্লিক বলেন, ইতোমধ্যেই কৃষকরা আউশ চাষের জন্য জমি তৈরি এবং চাষ শুরু করেছেন। এ লক্ষ্যে মোট ২ হাজার ৮৭৩ হেক্টর জমি বীজতলা হিসেবে তৈরি করেছেন কৃষকরা।
অল্প খরচে এবং সেচ কম লাগায় ভূ-গর্ভস্থ পানির সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আউশ চাষে উৎসাহিত করা হয়। সরকার এ বছর জেলায় চলতি আউশ মওসুমে ৯ হাজার ২০০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে প্রণোদনা বাবদ নগদ টাকাসহ ১ কোটি ২৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করেছে।
আব্বাস আলী/এফএ/জেআইএম