টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার চরাঞ্চলে মোসা. জাকিয়া বেগম (৫০) নামে এক নারীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার রাতে উপজেলার ভারড়া ইউনিয়নের আগদিঘুলিয়া পূর্বপাড়া গ্রামে সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় দুর্বৃত্তরা। নিহত জাকিয়া ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী মো. সোনা মিয়ার স্ত্রী।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে জাকিয়া বেগম তার ছোট ছেলে মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন (১২) ও বড় ছেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে (২০) নিয়ে একই ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাতের কোনো এক সময় অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে ঘুমিয়ে থাকা জাকিয়ার বুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এসময় সে চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
তার চিৎকার শুনে ছোট ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন ও বড় ছেলের স্ত্রী মোসা. স্বপ্না বেগম ঘুম থেকে উঠে অচেতন অবস্থায় রক্তাক্ত জাকিয়াকে দেখতে পায়। পরে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে চিকিৎসার জন্য নেয়ার পথে জাকিয়ার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুস সাত্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই জাকিয়ার মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হত্যার কারণ জানা যায়নি।
টাঙ্গাইলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (মির্জাপুর সার্কেল) মুহাম্মাদ শাহাদাৎ হোসেন ও নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ প্রসঙ্গে নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম জানান, সৌদি প্রবাসী সোনা মিয়ার বড় ছেলে আ. আলিম সিঙ্গাপুরে ও মেজ ছেলে মো. শহিদুল ইসলাম মালয়েশিয়া থাকেন। ১২ বছর বয়সের ছোট ছেলে মামুন ও বড় ছেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে নিয়ে বাড়িতে জাকিয়া বসবাস করে আসছেন।
পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। হত্যার কারণ উদঘাটনে জোর তদন্ত চলছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।
আরিফ উর রহমান টগর/এফএ/জেআইএম