নীলফামারীর ডিমলায় এইচএসসি ১ম বর্ষের দুই ছাত্রকে পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বের করার প্রতিবাদে বুধবার কলেজের পরীক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ ও পরীক্ষা বর্জন করেন। এসময় ডিমলা ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীরা ঘন্টাব্যাপী রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। অভিযুক্ত প্রভাষকের বিচার না হওয়া পর্যন্ত সকল পরীক্ষা ও ক্লাশ বর্জনের ঘোষণা দেয় তারা।পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানায়, গত সোমবার ডিমলা ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের ১ম বর্ষের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে পরীক্ষা চলাকালে দুই পরীক্ষার্থীকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। কলেজের এইচএসসি ১ম বর্ষের পরীক্ষার ফি না দেয়ায় কলেজের ইংরেজি প্রভাষক জহুরুল ইসলাম পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে জীবন কুমার রায় ও ইব্রাহিম কামাল রনিকে কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়। এসময় উক্ত প্রভাষক ছাত্রদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তিনি (প্রভাষক জহুরুল ইসলাম ) বলেন, ডিমলা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মাস্তান হিসেবে তৈরির প্রশক্ষিণ দেয়া হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ ঘটনাটি ফাঁস হয়ে পড়লে ডিমলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়ায় বিষয়টি সহপাঠীদের জানালে বুধবার তারা মনোবিজ্ঞান পরীক্ষা বর্জন করে। এসময় শিক্ষার্থীরা কলেজের সামনে ১ ঘন্টা রাস্তা অবরোধ করে রাখে। বিক্ষোভ সমাবেশ বক্তব্য রাখেন ১ম বর্ষের ছাত্র মাহামুদুর রহমান রাকিব, উদয় সরকার, ইব্রাহিম কামাল রনি, নাগর রায়, মহিম ইসলাম, শাকিল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আল, বেলাল হোসেনসহ অনেকে। এসময় কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুর রশিদ লেবু ও উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা আবু সায়েম সরকার গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।প্রভাষক জহুরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে বলেন, আমি বাইরে আছি। শিক্ষার্থীরা মাস্তানী করলে সেটা কোনভাবেই সহ্য করা হবে না। কলেজের পরীক্ষা চালানোর জন্য যা করা হয়েছে তা স্বাভাবিক। অন্য কোন বিষয়ে মন্তব্য না করে তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। এ ব্যাপারে ডিমলা ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাসিম হায়দার অপু বলেন, দুপুরে ঘন্টাব্যাপী শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় করা হয়েছে। আগামী ১৯ মে কলেজের জরুরি সভার আহবান করা হয়েছে। উক্ত সভায় শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষকের দ্বন্দ্বের বিষয়টি সমস্যা সমাধান করা হবে।জাহেদুল ইসলাম/এমএস