সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় গবাদি পশুর রোগ অ্যানথ্রাক্স মানবদেহে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৯ মে উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের কালিয়াকৈড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
গত ৪ জুন বিষয়টি জানতে পেরে উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে টিম গঠন করে আক্রান্তদের বাড়িতে গিয়ে দুইদিন ধরে চিকিৎসা দিচ্ছেন। তবে প্রাণিসম্পদ বিভাগ সঠিক সময় গবাদিপশুকে ভ্যাকসিনের আওতায় না আনায় বার বার এ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
অ্যানথ্র্যাক্স আক্রান্তরা হলেন উপজেলার মোহনপুর মিলপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদের স্ত্রী রোকেয়া খাতুন (৪৫), খোকন আলীর ছেলে কামরুল (১৪), কালিয়াকৈড় গ্রামের মমতাজ প্রামানিকের ছেলে শাহ আলম (৪০), আব্দুল করিমের ছেলে আকরাম আলী (৩০), আবুল হোসেনের ছেলে আরিফ (৩৫), আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মাসুদ (২৭), মুজা আকন্দের ছেলে আব্দুস সামাদ (৫০), শাহীন আলীর মেয়ে রিমা (৩), বাহের আলীর স্ত্রী ফাতিমা (৭০), রানা প্রামানিকের স্ত্রী রাশিদা (৩১), আবুল কাশেমের ছেলে হান্নান (৪০), হান্নান আলীর স্ত্রী জাহানারা (৩০), ছেলে বাদশা (১৪), শাহ আলমের মেয়ে সেতু (১০) এবং মাহমুদ আলীর ছেলে সিয়াম (১০)।
উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় এলাকা সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মে উল্লাপাড়া উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের কালিয়াকৈড় গ্রামের হাজী আবুল হোসেনের অসুস্থ গরু জবাই করে গ্রামবাসীদের নিকট কমদামে বিক্রি করে। এই মাংস কাটাকাটি ও নাড়া-চাড়ার সঙ্গে জড়িতদের প্রথমে হাত-পা-চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালো ক্ষত ও ঘায়ের মতো দেখা দেয়।
ওই মাংস কাটা ও রান্নার কাজে জড়িতরা ৫ দিনের মধ্যেই অ্যানথ্রাক্স রোগে আক্রান্ত হন। স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসার পর আক্রান্তরা জানতে পারে অ্যানথাক্স রোগ হয়েছে।
গত ৪ জুন উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১৫ জন অ্যানথ্রাক্স রোগী শনাক্ত করেন। এরপর থেকেই মেডিকেল টিম গঠন করে আক্রান্তদের বাড়িতে গিয়ে দুইদিন ধরে চিকিৎসা দিচ্ছেন।
এ ঘটনার পর উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ গরুটির মালিককে রোগাক্রান্ত গরু জবাই করার কারণে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। এলাকায় মাইকিং করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশের ফরিদপুর থানার জন্তিহার গ্রামেও আরও বেশ কয়েকজন অ্যানথাক্স রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে উল্লাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা জাফরুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট চিকিৎসকদল কালিয়াকৈড় গ্রামটি পরিদর্শন করেন। আক্রান্তরা পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত তাদের টিম আক্রান্ত এলাকায় চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
উপজেলার কালিয়াকৈড় গ্রামের অ্যানথ্র্যাক্স আক্রান্ত শাহ আলম ও আকরাম আলী বলেন, গরুর মাংস কাটা ও নাড়াচাড়া করার পর থেকে হাতে ফোসকা দেখা দেয়। একদিন পরে তা ঘায়ে রূপান্তর নেয়। আমার মেয়েকে তিনদিন স্থানীয় চিকিৎসকের ওষুধ খেয়ে ভালো হয়নি। পরে স্থানীয় স্বাস্থ্য ক্লিনিকে ভর্তি করলে তারা চিকিৎসা দেয়। এখন আমার বাচ্চা কিছুটা সুস্থ।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৬ সালের মে মাসে শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের চর কৈজুরী, পোরজনা ইউনিয়নের জামিরতা ও কায়েমপুর ইউনিয়নের সড়াতৈল গ্রামে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ পর্যাক্রমে ৭৮ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হন। এছাড়া ওই সময় জেলার কামারখন্দ ও উলাপাড়া উপজেলাতেও এ অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।
ইউসুফ দেওযান রাজু/এএম/পিআর