দেশজুড়ে

৪ দিনেও উদ্ধার হননি জাপা নেত্রী

জয়পুরহাট সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির মহিলা বিষয়ক সহসম্পাদক ও একই উপজেলার পশ্চিম পারুলিয়া গ্রামের মৃত সিদ্দিকুর রহমানের স্ত্রী রেহেনা বেগম (৪৫) নিখোঁজের ৪ দিন পরও উদ্ধার না হওয়ায় দলটির পক্ষ থেকে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এদিকে ইতোপূর্বে দুর্বৃত্তদের হাতে রেহেনা বেগমের স্বামী সিদ্দিকুর রহমন নিহত হওয়া ও সর্বশেষ রেহেনা বেগম নিখোঁজ হওয়ার পর একমাত্র ছেলে ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, গত ৯ মে সন্ধ্যায় রেহেনা বেগম পার্শ্ববর্তী জয়পুরহাট শহর থেকে ছেলের জন্য লুঙ্গি ও গেঞ্জি কিনে সেগুলো বাড়িতে রাখার পর বাইরে গিয়ে আর ফিরে আসেননি। এরপর গত ১১ মে পার্শ্ববর্তী আখক্ষেত থেকে তার পায়ের এক জোড়া স্যান্ডেল জুতো দেখে তা মা রেহেনার বলে সনাক্ত করেন ছেলে হুমায়ন কবীর (২৭)। প্রতিবেশীদের বাড়ি ও আত্মীয়-স্বজনসহ আশপাশের অনেকের  বাড়িতে রেহেনাকে খুঁজে না পাওয়্য়া ১১ মে সোমবার রাতে জয়পুরহাট সদর থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করা হয়। পশ্চিম পারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা নাসির উদ্দিন, এরশাদ হোসেনসহ প্রতিবেশীরা এ ঘটনায় উৎকণ্ঠা জানিয়ে বলেন, রেহেনা বেগমের আদরের একমাত্র ছেলে হুমায়ন কবীর, বৃদ্ধা মা গোলেসন বিবি ছাড়া এ পৃথিবীতে তাদের আর কেউ নেই। এ অবস্থায় নিরীহ হুমায়নের নিরাপত্তাও নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন গ্রামবাসী। গ্রামবাসীরা জানান, এই নিরীহ পরিবারটির কিছু জমিজমা গ্রাস করতে গত ২০০০ সালের অক্টোবর মাসে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রেহেনা বেগমের স্বামী সিদ্দিকুর রহমানকে হত্যা করেন দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় রেহেনা বেগম বাদী হয়ে জয়পুরহাট সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার পর থেকে রেহেনা বেগমের উপর নেমে আসে প্রভাবশালীদের নানা ধরনের অন্যায়-অত্যাচার। এরই এক পর্যায়ে ২/৩ বার তাকে বেদম প্রহার করে তার চাচাত দেবর একই গ্রামের মৃত মোখলেছার রহমানের ছেলে আবু রায়হান ওরফে রাহেল। এ ঘটনায় রেহেনা বেগম বাদী হয়ে রাহেলকে আসামি করে জয়পুরহাট সদর থানায় গত ২০১১ সালের ১৫ অক্টোবর নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করেন। এতে উচ্ছৃঙ্খল রাহেল ক্ষিপ্ত হয়ে মামলা তুলে নিতে রেহেনাকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এরই এক পর্যায়ে ২০১৫ সালের ১৭ এপ্রিল দেবর রাহেল আবারো রেহেনাকে বেদম প্রহার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রতিবেশীরা তাকে জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতলে ভর্তি করিয়ে দেন। এই ঘটনার জের ধরে রেহেনাকে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে বলে রেহেনার ছেলে হুমায়ুনসহ গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন।এ ব্যাপারে রাহেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে না পাওয়ায় তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।অন্যদিকে জেলা জাপা নেত্রী রেহেনা বেগম এখনো উদ্ধার না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলা জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ। জেলা জাপার সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম রিপন, কেন্দ্রীয় যুব সংহতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা জাপার যুগ্ম আহ্বায়ক তিতাস মোস্তফা এবং পৌর জাপার সাধারণ সম্পাদক কবিরুল ইসলাম রানা বলেন, জয়পুরহাট সদর উপজেলা জাপার মহিলা বিষয়ক সহ-সম্পাদক রেহেনা বেগম নিখোঁজ হওয়ার ৩ দিন পরও উদ্ধার না হওয়ায় জাতীয় পার্টি গভীরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে সুস্থভাবে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেবেন এমন প্রত্যাশা করছেন জাতীয় পার্টির সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ। জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। এছাড়া খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ নিখোঁজ জাপা নেত্রীকে খুঁজে বের করে আনতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এমজেড/পিআর