দেশজুড়ে

গোপালগঞ্জে দুর্নীতির দায়ে প্রধান শিক্ষক বরখাস্ত

দুর্নীতির দায়ে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী জিসি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নূর আলম তালুকদারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে স্কুলের ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের দায়ে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ কুন্ডুকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করেছে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি।বৃহস্পতিবার স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মুন্সি মো. ওয়াহিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।নূর আলম তালুকদার স্কুলের জন্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদের  অনুদানের টেলিভিশন, ঢেউটিনসহ বিভিন্ন খাতে ভুয়া ভাউচার দিয়েই শুধু সাড়ে ২৩ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। এছাড়া আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ অন্যায়, অার্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি করে আরো বিপুল পরিমান টাকা তিনি অত্মসাত করেছেন বলে তদন্তকারী দলের সদস্যরা ধারণা করছেন।স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মুন্সি মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪ ও ২০১৫-১৫ অর্থ বছরের ৩০ মার্চ পর্যন্ত  স্কুলের প্রধান শিক্ষক ভুয়া ভাউচার দাখিল করে বিদ্যালয়ে ২৩ লাখ ৫০ হাজার ৫৬৯ টাকা অাত্মসাত করেন। তিনি বিদ্যালয় পরিচালনা নীতিমালা অনুসরণ না করে আয়-ব্যয়ের হিসাব ব্যাংকের মাধ্যমে সম্পন্ন করেননি। এছাড়া তিনি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অমান্য করে নিজের খেয়াল খুশি মতো বিদ্যালয় পরিচালনা করেছেন। তিনি আরো জানান, অর্থ আত্মসাত ও দুর্নীতি ঢাকতে বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল, রেজুলেশন খাতা গোপন করাসহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ অন্যায়, অার্থিক অনিয়ম এবং দুর্নীতি করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ পওয়া গেছে। আর এ কারণেই তাকে বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষক চাকরি শর্ত বিধিমালা ১৯৭৯ এর ১৩ (০১) অনুচ্ছেদ মোতাবেক সাময়িক বরখান্ত করা হয়েছে। তাকে আগামী সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।কাশিয়ানী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহিম বলেন, তদন্তে টাকা আত্মসাতের ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা সভা করে অভিযুক্ত শিক্ষককে চাকরি থেকে সময়িক বরখাস্ত করেছে। এ সংক্রান্ত চিঠি আমরা পেয়েছি। বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চাকরির ক্ষেত্রে অর্থ-আত্মসাত একটি মারাত্মক অপরাধ। এটি প্রামাণিত হলে ওই শিক্ষকের বড় ধরনের শাস্তি হতে পারে। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মো. নূর আলম তালুকদারের মোবাইলে বারবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে তিনি ফোন বন্ধ করে দেন। এস এম হুমায়ূন কবীর/এআরএ/পিআর