দেশীয় চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় নায়ক বাপ্পারাজের জন্মদিন আজ (১১ মার্চ)। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সিনেমা থেকে দূরে থাকলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় এখনো তাকে নিয়ে আলোচনা হয়।
গত বছর শুরুর দিকে বাপ্পারাজের প্রায় দিন দশক আগের সিনেমা ‘প্রেমের সমাধি’র বিখ্যাত সংলাপ ‘চাচা হেনা কোথায়?’ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল। এ সংলাপ ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা তাকে হাস্যরসাত্মকভাবে ‘হেনা’র নায়ক হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রেমের সমাধি’ সিনেমায় বাপ্পারাজ ও শাবনাজ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। সিনেমার এক পর্বে নায়ক বকুল (বাপ্পারাজ) দীর্ঘদিন পর বাড়ি ফিরে তার প্রেমিকা হেনা (শাবনাজ) বাড়ি সাজানো দেখতে পান। বকুল হেনার বাবাকে জিজ্ঞেস করেন,“চাচা, বাড়িঘর এত সাজানো কেন? চাচা, হেনা কোথায়?” চাচার জবাবে বলা হয়, “হেনাকে তুমি ভুলে যাও, হেনার বিয়ে হয়ে গেছে।”বকুল তখন আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “না না, হেনার বিয়ে হতে পারে না। এ আমি বিশ্বাস করি না।” এরপরই বাজতে শুরু করে ‘প্রেমের সমাধি ভেঙে, মনের শিকল ছিঁড়ে, পাখি যায় উড়েসে যায়’ গান।
এই সংলাপটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে বহু মিম এবং ভিডিও ক্লিপে ব্যবহার হয়েছিল। নেটিজেনরা নিজেদের মতামত এবং হাস্যরসের প্রতিক্রিয়া দিয়ে বিষয়টিকে আলোচনার শীর্ষে নিয়ে এসেছিলেন।
একসময়ের এই ‘ট্র্যাজেডি নায়ক’ বাপ্পারাজ ঢাকাই সিনেমার নায়করাজ রাজ্জাকের ছেলে। আশি ও নব্বইয়ের দশকে তিনি অসংখ্য হিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন। বিশেষ করে ত্রিভুজ প্রেমের ট্র্যাজেডি সিনেমায় বেশি নজর কাড়েন। এছাড়া তিনি নাটক পরিচালনা ও ‘কার্তুজ’ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন।
‘তুমি বন্ধু আমার চির সুখে থেকো’, ‘আমি তো একদিন চলে যাব’, ‘তোমরা সবাই থাকো সুখে’ সহ বেশ কিছু বিরহ ঘরানার গান আজও দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এসব গানে ঠোঁট মিলিয়েছেন চিত্রনায়ক বাপ্পারাজ। এসব গানে কষ্টের মাঝে এক ফালি হাসি দিয়ে হাজারো দর্শকের হৃদয় জয় করেছেন তিনি।
ঢাকাই সিনেমার একজন সফল নায়ক বাপ্পারাজ। ক্যারিয়ারজুড়ে অসংখ্য রোমান্টিক চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। সেইসব সিনেমা হতো ত্রিভুজ প্রেমের। প্রায় সিনেমাতেই তিনি থাকতেন স্যাক্রিফাইসের ভূমিকায়। আপন মনে ভালোবেসে চলা প্রিয়তমাকে বন্ধুর হাতে তুলে দিয়ে সিনেমার শেষ দৃশ্য বেদনার করে তুলতেন তিনি। এ জন্য দর্শক তাকে ভালোবেসে কখনো ‘ছ্যাকা খাওয়া নায়ক’ কখনো বা ‘ব্যর্থ প্রেমের নায়ক’, ‘মিস্টার স্যাক্রিফাইস’ বলে ডাকেন। এই চরিত্রগুলোতে সাবলীল অভিনয়ে নব্বই দশকে আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তিনি। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছিল, দর্শক কোনো সিনেমাতে বাপ্পারাজ আছেন দেখলেই ধরে নিতেন সিনেমাতে শেষ দৃশ্যে করুণ পরিণতির শিকার হবেন এই নায়ক।
বাপ্পারাজের পারিবারিক নাম রেজাউল করিম। বাবা নায়করাজ রাজ্জাকের হাত ধরে ১৯৮৬ সালে ঢাকাই সিনেমায় পা রাখেন জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক। রাজ্জাকের পরিচালনায় ‘চাঁপাডাঙ্গার বউ’ সিনেমা দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা বাপ্পারাজ তিন দশকেরও বেশি সময়ের অভিনয় করেছেন শতাধিক সিনেমায়।
আরও পড়ুন:‘সরকার বলছে তেল আছে, তবে ভোগান্তি কেন’, প্রশ্ন শবনম ফারিয়ার‘শাকিব খানের প্রিন্স দেখে সবার ঘুম হারাম হয়ে যাবে’
বাপ্পারাজ অভিনীত ত্রিভুজ প্রেমের ‘প্রেমের সমাধি’, ‘প্রেমগীত’, ‘হারানো প্রেম’, ‘ভুলোনা আমায়’, ‘বুক ভরা ভালোবাসা’, ‘ভালোবাসা কারে কয়’ এমন বেশ কিছু সিনেমা তাকে দিয়েছে অনন্য জনপ্রিয়তা। এছাড়াও ‘বাবা কেন চাকর’, ‘সন্তান যখন শত্রু’, ‘সৎ ভাই’, ‘জবাব চাই’ ইত্যাদি সিনেমাগুলো দিয়ে দর্শকের মন ভরিয়েছেন তিনি।
বাপ্পারাজ কিছু নাটকে পরিচালনাও করেছেন। তার মধ্যে আছে ‘কাছের মানুষ রাতের মানুষ’ এবং ‘একজন লেখক’। তিনি ‘কার্তুজ’ নামের একটি চলচ্চিত্রও পরিচালনা করেছেন।
সর্বশেষ বাপ্পারাজ অভিনয় করেছেন ‘পোড়ামন ২’ সিনেমায়। সেখানে নায়ক সিয়ামের বড় ভাইয়ের চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় দেখিয়েছেন তিনি।
এমএমএফ/এমএস