বাঘাইছড়ির সাজেকে ছড়িয়ে পড়া ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাবে এলাকার দুর্গত লোকজনকে বাঁচানোর জন্য তাদের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে রাঙামাটির ত্রিপুরাকল্যাণ ফাউন্ডেশন। রোববার বিকেলে রাঙামাটি শহরের গর্জনতলীর ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থার কর্মকর্তারা এ আবেদন জানান।উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার ভারতের মিজোরাম সীমান্তবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকা সাজেকের তিন পাহাড়ি গ্রাম শিয়ালদাই, চাইল্যাতলী ও রুইলুইপাড়ায় হঠাৎ মহামারি আকারে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব ছড়ায়। এতে আক্রান্ত হয়ে পড়েন প্রায় দু`শতাধিক অধিবাসী। পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ আকারে। অস্থায়ী চিকিৎসা ক্যাম্পে জরুরি চিকিৎসাসেবায় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও এখনও তার পুরোপুরি উন্নতি ঘটেনি। এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় আক্রান্ত প্রায় দুই শতাধিক শিশু, নারী, পুরুষ।গত বুধবার বিকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আক্রান্ত ৬ জনের মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় পার্বত্যাঞ্চলে জনমনে চরম উদ্বেগ ও উদ্রেকের সৃষ্টি হয়। চিকিৎসকরা জানান, তীব্র গরম ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে সেখানে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় পরবর্তীতে আক্রান্ত ও দুর্গতদের মাঝে জরুরি চিকিৎসাসেবায় তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নেয় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, স্বাস্থ্য বিভাগ, জেলা প্রসাশন, রাঙামাটি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ত্রিপুরাকল্যাণ ফাউন্ডেশন, বাঘাইছড়ি আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন মহল। সংবাদ সম্মেলনে তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান ত্রিপুরাকল্যাণ ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা।সংবাদ সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, ত্রিপুরাকল্যাণ ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি অশোক ত্রিপুরা, সাধারণ সম্পাদক ঝিনুক ত্রিপুরা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক কঞ্জনি ত্রিপুরা প্রমুখ।সংবাদ সম্মেলনে ত্রিপুরাকল্যাণ ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা ও জেলা পরিষদ সদস্য স্মৃতি বিকাশ ত্রিপুরা বলেন, সাজেকে ডায়রিয়াসহ যে কোনো দূষিত পানি ও জীবানুবাহিত রোগের মহামারি প্রতিরোধে দরকার স্থায়ী ব্যবস্থা। তা না হলে দুর্যোগ মোকাবেলা সম্ভব নয়। দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। এসব বিষয়ে স্থায়ীভাবে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে দুর্গম সাজেকে দূষিত পানি ও জীবানুবাহিত রোগের মহামারি প্রতিরোধ সম্ভব নয়। আর এ সব বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।সুশীল চাকমা/এআরএ/আরআই