দেশজুড়ে

ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ মহাসড়ক ঘিরে ভোগান্তির আশঙ্কা

এবারের ঈদ যাত্রায় চরম ভোগান্তিতে পড়বে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যাত্রীরা। প্রতিদিন দীর্ঘ যানজট, অবর্ণনীয় দুর্ভোগ, আর হয়রানির অন্ত নেই এ সড়ক দুটিতে যাতায়তকারী সাধারণ মানুষের। দীর্ঘ যানজট আর জলজটের কারণে গাজীপুরের ব্যবসা-বাণিজ্যেও ধস নেমে এসেছে।

বৃষ্টি, যানজট ও জলজটের কারণে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। ক্রেতা শূন্য অবস্থা বিরাজ করছে গাজীপুরের বিভিন্ন বিপনী কেন্দ্রগুলোতে। ঢাকা থেকে গাজীপুরে যাতায়তকারী বিভিন্ন কারখানার বায়াররা আসতে পারছেন না কারখানায়। ঢাকা থেকে গাজীপুর আসতে অনেকের ৮-১০ ঘণ্টা সময় লেগে যাচ্ছে। কর্মঘণ্টার সব টুকুই চলে যাচ্ছে রাস্তায়।

স্থানীয়রা জানিয়েছে এবার ঢাকা থেকে যারা টাঙ্গাইল হয়ে উত্তরাঞ্চলে যাবেন তাদের জন্য অপেক্ষা করছে ভয়াবহ দুর্ভোগ। বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ভাঙা, রাস্তায় যানবাহন বিকল হয়ে যাওয়া এবং বৃষ্টিতে যানবাহন ধীরগতিতে চলার কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে দীর্ঘ যানজট।

রোববার রাত ৯টায় গাজীপুর ভোগড়া বাইপাস থেকে বাসে ওঠেন বগুড়াগামী যাত্রী ইসমাইল হোসেন। তিনি মোবাইল ফোনে সোমবার দুপুর দুইটায় জানালেন ১৭ ঘণ্টায় তিনি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত যেতে পেরেছেন। বগুড়া যেতে তার আর কত সময় লাগবে তা অনিশ্চিত।

রাস্তায় যানজট নিরসনের দায়িত্বে থাকা হাইওয়ে পুুলিশ ও থানা পুলিশ যানজটের কাছে অসহায়। সালনা হাইওয়ে থানার ওসি হোসেন সরকার জানান, যানজট যদি মির্জাপুর থেকে শুরু হয় তাহলে আমরা কোনাবাড়ি থেকে কী করতে পারি? তবে যাতদুর সম্ভব যানবাহন গুলোকে শৃংখলার মধ্যে রেখে তাদের চলাচলের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। রোদ হলে রাস্তার কিছুটা উন্নতি হবে। তখন আর এত যানজট থাকবে না।

এদিকে টঙ্গী হয়ে যেসব যাত্রী ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, হালুয়াঘাট, শেরপুর, মুক্তাগাছা, জামালপুরসহ উত্তরদিকে যাবেন তাদের জন্য দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে টঙ্গী থেকে চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার সড়ক।

বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার কারণে এ সড়কের অবস্থা খুবই বেহাল। সড়কটির বিভিন্ন স্থান পানিতে তলিয়ে থাকায় বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে অনেক স্থানে যানবাহন আটকে যাচ্ছে ফলে তৈরি হচ্ছে ভয়াবহ যানজট। গাজীপুর সড়ক বিভাগ সড়কটি সচল রাখতে নানা পদক্ষেপ নিলেও বৃষ্টিতে তাদের পদক্ষেপগুলো ভেস্তে যাচ্ছে।

গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তায় শাপলা ম্যানশনের দোকান মালিক জালাল বাবু জানান, বৃষ্টি আর যানজটের কারণে অনেকে ঈদের ৭-৮ দিন আগে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে চলে যাবেন। এজন্য তারা আগে ভাগেই মার্কেট করে থাকেন। গত কয়েকদিনে বৃষ্টি, যানজট আর জলাবদ্ধতার কারণে মার্কেটে ক্রেতা মিলছে না। তাই প্রত্যাশা অনুযায়ী তাদের বিক্রি হচ্ছে না।

ভোগড়া বাসন সড়ক এলাকার বাড়িওয়ালা সাইফুল ইসলাম জানান, তার বাড়িতে শতাধিক পরিবার বাস করে। টিভিতে যানজট আর মানুষের দুর্ভোগ দেখে তারা ঈদে বাড়ি যাত্রার পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। বিকাশে স্বজনদের কাছে টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছেন কোনাকাটার জন্য। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরে বাড়ি যাবেন।

এ ব্যপারে বিআরটি প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরে আলম জুয়েল জানান, বিআরটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ঈদ ও বৃষ্টির কারণে আপাতত মহাসড়কের পানি নিষ্কাশন এবং রাস্তার গর্ত এবং ভাঙাচোরা রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে। ঈদে ঘর মুখো মানুষের চলাচল নির্বিগ্ন করতে রাস্তা সচল রাখাই এখন প্রধান কাজ।

গাজীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ডি.এন নাহিন রেজা জানান, টঙ্গী থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সড়কটি বিআরটি প্রকল্পের অন্তর্ভূক্ত। তাদেরই মূলত সড়কটি মেরামত করার কথা। তারপরও যেহেতু সড়কটি গাজীপুরে অবস্থিত সেহেতু কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মহাসড়কের সংস্কার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে সড়কটি পুরোপুরি মেরামত করা সম্ভব হবে।

আমিনুল ইসলাম/এফএ/পিআর