একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুস সুবহানকে একটি মামলায় বুধবার পাবনার আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার শুনানি শেষে পাবনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রেজাউল করিম তার জামিন আবেদন দ্বিতীয়বারের মত নামঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ১১ এপ্রিল একই আদালতে তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন ও জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। মামলার পরবর্তী তারিখ আগামী ১০ অক্টোবর ধার্য করেন আদালত।
এর আগে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে মাওলানা আব্দুস সুবহানকে পাবনা কারাগার থেকে পাবনা আমলি আদালত-১ এ হাজির করা হয়। গত ২০ জুন তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পাবনা কারাগারে আনা হয়।
আদালতের পিপি আক্তারুজ্জামান মুক্তা জানান, ২০০৩ সালের ৩ আগস্ট পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের ২৮২টি বাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর সারাদেশে যে তাণ্ডব চালায় এটি ছিল তারই ধারাবাহিকতা। মাওলানা আব্দুস সুবহানের নির্দেশেই ওই ঘটনা ঘটে। সে সময় বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকায় থানা মামলা নেয়নি।
পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুস বাদী হয়ে মাওলানা আব্দুস সুবহানকে প্রধান আসামি করাসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ২ এপ্রিল পাবনা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নুরে আলম সিদ্দিকী এবং আব্দুল বারী দীর্ঘ তদন্ত শেষে একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর ২৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মাওলানা আব্দুস সুবহানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে পাবনা যাওয়ার পথে সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল প্লাজা এলাকা থেকে মাওলানা আব্দুস সুবহানকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ২০১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি তাকে ফাঁসির আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মামলায় সরকার পক্ষে ছিলেন পিপি আক্তারুজ্জামান মুক্তা, এপিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদ বাবু প্রমুখ। আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার, অ্যাডভোকেট নাজমুল হোসেন শাহিন, অ্যাডভোকেট ইয়াহিয়া প্রমুখ।
একে জামান/আরএআর/জেআইএম