দেশজুড়ে

চেয়ারম্যান টাকা চাওয়ায় ফিরে গেল কার্ডধারী হতদরিদ্ররা

নওগাঁ সদর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের মাঝে বিনামূল্যে ভিজিএফ চাল বিতরণে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। টাকা দিতে না পেরে অনেকেই গম না নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

জানা যায়, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় ২ হাজার ১৩০ জন হতদরিদ্রের মাঝে বিনামূল্যে ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হবে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে ১০ কেজি চালের পরিবর্তে প্রতিটি কার্ডধারীকে ১৩ কেজি ৪শ গ্রাম করে গম দেয়া শুরু হয়। কিন্তু স্থানীয় চেয়ারম্যান বেদারুল ইসলাম প্রত্যেক কার্ডধারীর কাছ থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করে গম দিচ্ছেন। এতে অনেকেই টাকা দিতে না পেরে গম না নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এতে করে অনেক হতদরিদ্রদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, সরকার বিনামূল্যে আমাদের মাঝে যে ভিজিএফ চাল/গম দিচ্ছেন চেয়ারম্যান ১০০ টাকা করে নিয়েছেন। আবার যারা টাকা দিতে পারেনি তারা অনেকেই ফিরে গেছেন। ঈদের সময় আমাদের মতো হতদরিদ্রদের কাছ থেকে জোর করে টাকা নিয়ে গম দিয়েছেন চেয়ারম্যান।

চেয়ারম্যান বেদারুল ইসলাম বলেন, ভিজিএফ কার্ডধারী অনেকেই হোল্ডিং ট্যাক্স দিতে পারেনি। অনেক দিন থেকে তাদেরকে ইউনিয়ন পরিষদের টাকা জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা কেউ টাকা দেয়নি। অবশেষে মেম্বার (ইউপি সদস্য) নিয়ে বসে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। হতদরিদ্রদের ভিজিএফ কার্ডধারী যারা টাকা দিতে পারেনি তাদেরকে গম দেয়ার সময় ১০০ টাকা করে নিয়ে গম দেয়া হবে। আবার যারা একেবারেই দিতে পারেনি তাদেরকে আমার নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়েছি হোল্ডিং ট্যাক্স দেয়ার জন্য।

সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হোল্ডিং ট্যাক্স না দেয়ায় তাদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হয়েছে। তবে কাজটা ঠিক হয়নি। চেয়ারম্যানকে টাকা না নেয়ার জন্য নিষেধ করা হয়েছে এবং যারা ফিরে গেছেন তাদেরকে আবার ডেকে নিয়ে আসার জন্য বলা হয়েছে।

অপরদিকে, জেলার মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নে দলীয় স্লিপ দিয়ে গম উত্তোলন করার সময় একই গ্রামের ইমন মন্ডল(১১) নামে এক কিশোরকে জুতা দিয়ে মারপিটের অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ইউনিয়ন পরিষদে ইমন মন্ডল তার বোন প্রভার দলীয় স্লিপ নিয়ে গম উত্তোলন করতে যায়। সেখানে ইমন মন্ডলকে দেখে স্থানীয় চেয়ারম্যান আলহাজ আবিদ হোসেন সরকার উত্তোজিত হয়ে বলেন এক স্লিপ দিয়ে কয়বার গম উত্তোলন করিস। এতে চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে ইমন মন্ডলকে জুতা দিয়ে পারপিট করে তার গেঞ্জি ছিড়ে ফেলে। এছাড়া গম ওজনে কম দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

প্রভার স্বামী আসলাম হোসেন বলেন, স্ত্রী কাজে ব্যস্ত থাকায় শ্যালক ইমন মন্ডলের হাতে স্লিপ দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে গম আনতে পাঠাই। ইমন মন্ডল নাকি দুই বার গম উত্তোলন করেছে এজন্য চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে মারপিট করেছে। আর এক স্লিপ দিয়ে কিভাবে দুই বার গম উত্তোলন করা সম্ভব।

চেয়ারম্যান আলহাজ আবিদ হোসেন সরকারকে তার মোবাইল নম্বরে ১০ বার ফোন দিয়েও রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেবুন নাহার বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আব্বাস আলী/এমএএস/জেআইএম