দেশজুড়ে

পাঁচবিবিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে শিশু পানীয়

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা ও ধরঞ্জী ইউনিয়নের রতনপুরে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে কিছু গোপন কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে ভেজাল শিশু পানীয় পাইপ। মোটা পাইপে ভরানো পেপসি ও লিচুর স্বাদযুক্ত পাইপগুলো বিভিন্ন দোকানে দোকানদাররা ফ্রিজে রেখে বিক্রি করছে। গরম বেশি পড়ায় তৃঞ্চাত শিশুরা সেগুলো কিনে পান করছে। ফলে উদ্বিগ্ন অভিভাবক মহল। সরেজমিনে উপজেলার বাগজানা ও রতনপুরের কারখানা ও দোকান ঘুরে দেখা যায়, একটি প্রতারক চক্র অধিক মুনাফার আশায় প্রতিদিন ওই গোপন কারখানায় বসে চিনি দিয়ে মিষ্টি রস তৈরি করে। তার মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের রং ও পেপসি, লিচু, অরেঞ্জ স্বাদযুক্ত সুগন্ধ ছড়ানোর জন্য বিষাক্ত কেমিক্যাল মিশ্রণ করা হচ্ছে। পরে এই ভেজাল পানীয় পলিথিনের মোটা পাইপে ভরে মেশিন দ্বারা পলিথিনের মুখ বন্ধ করে বিভিন্ন দোকানে সরবরাহ করে আসছে। পাইপের উপরে ইংরেজিতে পেপসি, লিচি ও অরেঞ্জ লেখা রয়েছে। পাইপগুলোতে বিএসটিআই এর অনুমোদনের কোন সিল, উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ, তৈরির উপাদান লেখা দেখা যায়নি। পাইপগুলো সস্তায় ২ টাকা থেকে ৫ টাকা হওয়ায় স্কুল পড়ুয়া কোমলমতি তৃঞ্চাত শিশুরা প্রতিদিন স্কুলসংলগ্ন দোকান হতে খুব সহজেই ক্রয় করে পান করছে। এই নিম্নমানের পাইপ পান করায় নানা পেটের অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। ভুক্তভোগী শিশুর অভিভাবক শাহাদত হোসেন জানান,অন্যান্য শিশুর দেখাদেখি আমার মেয়েও স্কুল থেকে ফেরার পথে পেপসি লেখা পাইপ ২ টাকা দিয়ে কিনে পান করে। রাতে তার পেটের ব্যথা শুরু হয়। তারপর ডাক্তারের পরামর্শে আল্লাহর রহমতে সে সুস্থ হয়।পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক খুরশীদ আলম বলেন, পাইপগুলো পান করে শিশুরা পেটের বিভিন্ন অসুখ ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসছে। আমরা তাদের অভিভাবকসহ আশপাশের অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার জন্য বলে দিচ্ছি।  পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরউদ্দিন আল ফারুক বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার জন্য লিফলেট ও মাইকিং এর ব্যবস্থা শিগগিরই করা হবে।এসএস/এমএস