বান্দরবান শহরের বালাঘাটার ভরাখালী এলাকায় নাছিমা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে গলা টিপে মুখে বিষ ঢেলে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় সুমি আক্তার নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নাছিমা এবং সুমি উভয়ই আপন বোন। তাদের উভয়ের স্বামী আনোয়ার হোসেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার রাতে স্বামী আনোয়ার হোসেন তার বড় স্ত্রী নাছিমা আক্তারকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটায়। একপর্যায়ে সে জ্ঞান হারালে তাকে গলা চেপে ধরে হত্যা করা হয়।
পরে তার মুখে কীটনাশক ঢেলে দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে মরদেহ হাসপাতালে রেখেই স্বামী পালিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক বছর আগে আনোয়ার হোসেন তার স্ত্রী নাছিমা আক্তারের আপন ছোট বোন সুমিকে (১৭) বিয়ে করেন। আনোয়ার জেলা শহরের ভরাখালী এলাকায় দুইটি ঘর তুলে আলাদাভাবে দুই স্ত্রীকে রেখেছেন। এ নিয়ে পরিবারে প্রায় ঝগড়া বিবাদ হতো। কয়েকবার এলাকায় সালিশ হলেও তার সমাধান না হওয়ার কারণে এটি হত্যাকাণ্ড বলে জানান স্থানীয়রা।
নিহতের আরেক বোন শাহিনা আক্তার বলেন, বোন বিষ পানে মারা গেছে বলে আমাকে ফোন করে তার স্বামী জানিয়েছে। পরে স্থানীয়রা জানায় স্বামী নিজেই তাকে মেরে আত্মহত্যা বলে প্রচারণা চালায়।
নিহতের মা জয়নাব বেগম বলেন, আমার মেয়েকে সবসময় শারীরিক নির্যাতন করতো। অনেকবার বিচার হয়েছে। বিচারের সময় সবার কাছে বড় মেয়েকে আর মারধর করবে না বলে কথা দেয়। কিন্তু তাকে এবার বাঁচতে দিল না। আমি এই হত্যার বিচার চাই।
বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক কর্মকর্তা ডা. ওমর শরীফ জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। কী কারণে মারা গেছে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।
বান্দরবান সদর থানা পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর বলেন, এ ঘটনায় সদর থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে নিহতের আপন ছোট বোন সুমি আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সৈকত দাশ/এএম/জেআইএম