দেশজুড়ে

গণশিক্ষার রিসোর্স সেন্টার এখন ‘গোয়ালঘর’

মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম নেত্রকোনা চলছে ঢিলেঢালাভাবে। কোনো কোনো স্থানে কার্যক্রম একেবারে নাই বললেই চলে। এর মধ্যে খালিয়াজুরী উপজেলা মডেল রিসোর্স সেন্টারটি পরিণত হয়েছে গোয়ালঘরে।

ফলে সরকারের এ প্রকল্পটি ভেস্তে যেতে বসেছে। তবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালকের দাবি কার্যক্রম চলছে ভালোভাবেই।

১৯৯৩-৯৪ শিক্ষাবর্ষে মাত্র ১২টি কেন্দ্র নিয়ে নেত্রকোনায় শুরু হয় প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম।

বর্তমানে জেলার ১০ উপজেলায় মোট ৮৯৪টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ৮৯৪ শিক্ষক দিয়ে চলছে এই কার্যক্রম। এর মধ্যে নেত্রকোনা সদরে রয়েছে ৪টি রিসোর্স সেন্টার ও ১৬৪টি শিক্ষা কেন্দ্র, পূর্বধলায় রয়েছে ৪টি রিসোর্স সেন্টার ও ১৫৪টি শিক্ষাকেন্দ্র, দুর্গাপুরে রয়েছে ৬টি রিসোর্স সেন্টার ও ১৬৪টি শিক্ষাকেন্দ্র, কেন্দুয়ায় রয়েছে ৩টি রিসোর্স সেন্টার ও ৯১টি শিক্ষাকেন্দ্র, কলমাকান্দায় রয়েছে ৩টি রিসোর্স সেন্টার ও ৯১টি শিক্ষাকেন্দ্র, মোহনগঞ্জে রয়েছে ৩টি রিসোর্স সেন্টার ও ৫৫টি শিক্ষাকেন্দ্র, বারহাট্টায় রয়েছে ৩টি রিসোর্স সেন্টার ও ৬৬টি শিক্ষাকেন্দ্র, আটপাড়ায় রয়েছে ৩টি রিসোর্স সেন্টার ও ৯১টি শিক্ষাকেন্দ্র, মদনে রয়েছে ৩টি রিসোর্স সেন্টার ও ৬১টি শিক্ষাকেন্দ্র, ও খালিয়াজুরীতে রয়েছে ৩টি রিসোর্স সেন্টার ও ৪০টি শিক্ষাকেন্দ্র।

জেলার মোট ১০ উপজেলায় ৩৫টি মডেল রিসোর্স সেন্টারে উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিংয়ের জন্য ৩৫ জন উপজেলা কর্মকর্তাকে দেয়া হয় ৪ হাজার ৫০০ টাকা করে মাসিক সম্মানি। ৮৯৪টি কেন্দ্রর প্রত্যেকটির বিপরীতে ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে দেয়া হচ্ছে ঘরভাড়া।

প্রতিটি কেন্দ্রে ৩০-৩৫ জন শিক্ষার্থী থাকার কথা রয়েছে। আর কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা ফাজিল পাস প্রত্যেক শিক্ষককে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৫০০ টাকা সম্মানি ভাতা দেয়া হচ্ছে। যা চলতি বছরের জুলাই থেকে ৪ হাজার টাকা সম্মানি দেয়া হবে।

খালিয়াজুরী মডেল রিসোর্স সেন্টারটিতে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয়রা গোয়ালঘর বানিয়ে গরু বেঁধে রেখেছেন। ঘরের আশপাশে কয়েকটি গরু রাখা হয়েছে।

খালিয়াজুরী প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, দুই বছর ধরে খালিয়াজুরী মডেল রিসোর্স সেন্টারটি বন্ধ রয়েছে। এখানে শিক্ষকদের ট্রেনিং করানোর কথা থাকলেও কোনো দিনই খোলা হয় না। আর গ্রাম পর্যায়ের কেন্দ্রগুলোও বন্ধ রয়েছে।

নেত্রকোনা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. ওমর ইবনে হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, জেলার ৬৯৪টি কেন্দ্রই সঠিকভাবেই চলছে। যদি কেউ তার কর্তব্য কাজে গাফিলতি করে থাকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা পর্যায়ে অনেক সেন্টারই বন্ধ ও খালিয়াজুরী মডেল রিসোর্স সেন্টারটি গোয়ালঘরে পরিণত হয়েছে কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কামাল হোসাইন/এএম/পিআর