রাজাপুর উপজেলার আরুয়া গ্রামের জাকির হাওলাদারের ৮ হাজার টাকা চুরি হয় শনিবার দুপুরে। দিনমজুর মোতালেব হাওলাদারের ছেলে আরুয়া সোনারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুছাত্র রাজু হাওলাদারকে সন্দেহ করা হয়।
বিকেলে বাড়ির সামনে খেলতে ছিল স্কুলছাত্র রাজু। এ সময় তিনজন মিলে রাজুকে ধরে নিয়ে যায় জাকির হোসেনের নির্জন ভিটায়। সেখানে পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে এলাকার স্কুলশিক্ষক রুহুল আমিনের ছেলে ইয়াবা ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী মাতাল সজীব হোসেন, আব্দুল হাকিমের ছেলে সাইদুল ও গৌরাঙ্গ ওরফে গৌরার ছেলে লিটন সেখানে কাপড়ের টুকরা দিয়ে তার মুখ ও চোখ বাঁধে।
পরে গরুর রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে মাথা নিচের দিকে ও পা উপরের দিকে দিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে। হাতের আঙুলে দিয়াশলাইয়ের কাঠি জ্বালিয়ে আগুনের ছেঁকা দেয়া হয়। পর্যায়ক্রমে দা, লাঠি, কঞ্চি ও কাঠের টুকরা দিয়ে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নির্মমভাবে মারধর করা হয় রাজুকে।
রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন নির্যাতনের শিকার স্কুলছাত্র রাজু এমন রোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দেন।
রাজুর ভাষ্য, আমাকে যখন দড়ি দিয়ে ঝুলানো হচ্ছিল তখন আমার অনেক কষ্ট হয়। তাদের কাছে অনেক কান্না-কাটি করেছি। আমাকে ছেড়ে দেন, আমি চুরি করি নাই। কিন্তু তারা আমার কথা না শুনে অনেক মারছে, আঙুলে আগুনের ছ্যাকাও দিছে। এরপর কি হয়েছে তা আর জানি না।
রাজুর বাবা দিনমজুর মোতালেব হাওলাদার জানান, শনিবার সন্ধ্যা হয়ে আসছে। কিন্তু রাজু ঘরে আসছে না। খোঁজ করতে করতে রাতে সন্ধান পাই। এরপর ঘরে নিয়ে এসে কিছু প্রাথমিক ওষুধ খাওয়ালেও ব্যথা না কমায় রাতে ব্যথায় ছটফট করতে থাকে। রোববার সকালে রাজাপুর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করি। দুপুরে থানায় গিয়ে অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত মামলা নেয়া হয়নি। আসামিরা এলাকায় বীরদর্পে ঘুরে বেড়াচ্ছে। উল্টো এখন আমাকে বিভিন্ন রকমের হুমকি দিচ্ছে। আইনের আশ্রয় নিতে গিয়ে এখন আমিও পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি।
বিষয়টি গতকাল রোববার (০২ জুন) রাতে ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় পুলিশ কর্তারা শিশুটিকে দেখতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দিয়ে দোষীদের বিচারের আশ্বাস দেন।
এ ব্যাপারে রাজাপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি-অপারেশন) ফোন নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া সার্কেল) মো. মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘আমি রোববার রাতে ঘটনা শুনেই শিশু রাজুকে দেখতে হাসপাতালে যাই। রাজু এখন শঙ্কামুক্ত। রাজুর বাবা অভিযোগ দিয়েছে কিন্তু তাকে থানায় আসতে বলা হলেও সে না আসায় মামলা রেকর্ডে বিলম্ব হচ্ছে। যদি পরিবার থেকে মামলা নাও দেয় তাহলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করার জন্য পুলিশ সুপার নির্দেশ দিয়েছেন।’
রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, শিশু রাজুকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেয়ার পর এখন একটু সুস্থ। তবে সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত নয়।
অভিযুক্তদের মধ্যে সজীব হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অশালীন আচরণ করে বলেন, এসব ঘটনা মোবাইলে জানানো যাবে না। জানতে হলে ঘটনাস্থলে আসেন।
মো. আতিকুর রহমান/এএম/এমএস