দেশজুড়ে

পাটগ্রামে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে গ্রাম পুলিশ নিখোঁজ

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সীমান্তে চোরাকারবারীদের ধরতে গিয়ে তিস্তা নদীতে পড়ে বিজিবির ল্যান্স নায়েক সুমন মিয়া (৩০) নিহতের পর গত এক সপ্তাহে বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে বিজিবি।

অভিযানে দহগ্রাম ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ তৌহিজুল ইসলামসহ (৬৫) দুইজনকে আটকের সাতদিন পর গত সোমবার ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে বিজিবি। এ সময় বিজিবির ভয়ে তিস্তা নদীতে লাফ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন গ্রাম পুলিশ তৌহিজুল। পরে তার ছেলে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম হাসানুল ইসলামকে (৪৫) আটক করেছে বিজিবি।

এ ব্যাপারে স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পাটগ্রাম থানা পুলিশ নিখোঁজের ব্যাপারে বিজিবির সাধারণ ডায়েরি করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

ঈদের দিন রাত ২টার দিকে তিস্তা নদী সংলগ্ন সীমান্ত এলাকার আবুলের চরে ভারতীয় গরু চোরাকারবারীদের ধরতে যান দহগ্রাম বিজিবি ক্যাম্পের ল্যান্স নায়েক সুমন মিয়া। এ সময় তার সঙ্গে আরও তিন বিজিবি সদস্যসহ স্থানীয় গ্রাম পুলিশ তৌহিজুল ইসলাম ও তৈাহিজুল ওরফে নুরু (৪৫) নামে এক ভ্যানচালক ছিলেন। সেখানে অভিযানের সময় বিজিবির ল্যান্স নায়েক সুমন মিয়া তিস্তা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন।

জানা যায়, বিজিবি সদস্য নিখোঁজ হওয়ার পরপরেই ঘটনার সময় সঙ্গে থাকা দহগ্রাম ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ তৌহিজুল ইসলাম ও একই এলাকার ভ্যানচালক তৈাহিজুল ওরফে নুরুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে বিজিবি। এরপর তাদেরকে বিজিবির রংপুর সেক্টর কার্যালয়ে  নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে গত সোমবার দুপুরের দিকে তাদেরকে নিয়ে আসা হয় পাটগ্রামে দহগ্রাম এলাকার ঘটনাস্থলে। এ সময় বিজিবির সঙ্গে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনও ছিল বলে জানা গেছে। তবে ঘটনাস্থলে ওই রাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে হঠাৎ করেই গ্রাম পুলিশ তৌহিজুল ইসলাম তিস্তা নদী লাফ দেয়। এরপর তাকে খুঁজে না পাওয়ায় তৌহিজুলের ছেলে দহগ্রামের সৈয়দপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হাসানুল ইসলামকে আটক করে নিয়ে যায় বিজিবি। পরে দহগ্রামের স্থানীয় আরও চার ব্যক্তিকে বিজিবি  জিজ্ঞাবাদের জন্য আটক করে রংপুর বিজিবি সেক্টর কার্যালয়ে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান।

এ ব্যাপারে গ্রাম পুলিশ তৌহিজুল ইসলামের স্ত্রী হোসনে আরা বেগম বলেন,   বিজিবি যখন যেখানে ডাকে আমার স্বামী সেখানেই যায়। শুনছি তিনি  (তৌহিজুল) নাকি তিস্তা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে হারিয়ে যাওয়ায় আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে গেছে বিজিবি। এতে আমার ছেলের কী দোষ?

দহগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বলেন, গ্রাম পুলিশ তৌহিজুল বিজিবির সামনে নদীতে লাফ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন বলে শুনেছি। পরে তার ছেলে হাসানুল ইসলামসহ আরও চারজনকে আটক করা হয়েছে।

পাটগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অবনি শংকর কর বলেন, বিজিবি দহগ্রাম থেকে কতজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেছে তা আমার জানা নেই। তবে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে একজনের নিখোঁজের ব্যাপারে সোমবার বিকেলে পাটগ্রাম থানায় বিজিবি একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

প্রসংঙ্গত, চোরকারবারীদের ধরতে গিয়ে তিস্তা নদীতে পড়ে নিখোঁজের প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম বিজিবি ক্যাম্পের ল্যান্স নায়েক সুমন মিয়াকে (৩০)। ল্যান্স নায়েক সুমন মিয়া রংপুর ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্য ছিলেন। তবে তিনি লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দহগ্রাম ক্যাম্পে সংযুক্ত ছিলেন। তার বাড়ি হবিগঞ্জের সদর উপজেলায় বলে জানা গেছে। মরদেহ উদ্ধারের পর বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা শেষে পারিবারিক কবর স্থানে সুমন মিয়ার  মরদেহ দাফন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

রবিউল হাসান/আরএআর/আরআইপি