দেশজুড়ে

আদালতের কাঠগড়ায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী কর্মকর্তা

পিরোজপুরের আদালতে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার হাজিরের কথা থাকলেও তাদের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একাই হাজির হয়েছেন।

ভান্ডারিয়া উপজেলা সরকারি কলেজের এক সহকারী অধ্যাপকের দায়ের করা কোটি টাকার মানহানি মামলায় সমন জারির পর বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একাই হাজির হন।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসার পথে তার গাড়ির চাকা পাংচার হয়ে যাওয়ায় তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। আদালত শুনানি শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জামিন দেন। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাদীর আইনজীবী আকরাম হোসেন তালুকদার।

গত ৫ জুলাই পিরোজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারিক হাকিম মো. সাইফুজ্জামান তাদের আদালতে হাজির হয়ে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে জবাব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে বরিশাল মুখ্য বিচারিক আদালতের মাধ্যমে ওই সমন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়।

আদালত সূত্র জানায়, ভান্ডারিয়া সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. মমতাজউদ্দিন বাদী হয়ে ভান্ডারিয়া উপজেলার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বর্তমানে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এম মনির হোসাইন ছাড়াও একই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশ্রাফুল ইসলামকে আসামি করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালে ভান্ডারিয়া উপজেলার সরকারি কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষার দায়িত্ব পালনকালে এক ছাত্রীর সিট পরিবর্তন করা নিয়ে সহকারী কমিশনারের সঙ্গে সহকারী অধ্যাপকের তক-বিতর্ক হয়।

এর জের ধরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার হুমকি দেয়া হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম মনির হোসাইন ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে বিচার করার হুমকি প্রদর্শন এবং সহকারী অধ্যাপককে পা ধরে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করেন।

এই ঘটনায় পিরোজপুরের শিক্ষক সমাজ ফুঁসে ওঠেন এবং রাস্তায় আন্দোলন ও মানববন্ধন করেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে থাকলে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

বর্তমানে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার আইনউদ্দিন সরকারি কলেজে চাকরিরত সহকারী অধ্যাপক মো. মমতাজ উদ্দিন ২০১৫ সালের ৮ জুন ওই মানহানির মামলা করেন।

হাসান মামুন/এএম/এমএস