শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জালিয়াতিসহ তিনটি মামলায় ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ডেবরা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিনকে মোট ১২ বছর কারাদণ্ড ও ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। এ সময় শিক্ষক রুহুল আমীন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
এর মধ্যে সনদ জালিয়াতি ও সরকারি কাজে বাধা দানের মামলায় ৫ বছর করে ১০ বছর ও প্রতারণা মামলায় ২ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়।
বুধবার দুপুরে ঝালকাঠির চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু মো. শামীম আজাদ এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সঞ্জীব কুমার বিশ্বাস সন্তোষ।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ভুয়া সনদের অভিযোগে গত ১০ বছর ধরে রুহুল আমিনের এমপিও স্থগিত রয়েছে। জাল সনদে শিক্ষকতা, প্রতারণা ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে ২০১১ সালের ২৬ জুন প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে নলছিটি থানায় মামলা করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার।
বাদী তৎকালীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম হারুন অর রশিদ, উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসার মো. ইউনুচ আলী আকন, উপজেলা মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. আবুল বাশার তালুকদার, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (সনদ) সরদার মো. এরশাদ, যশোর শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) মো. আজমল গনিসহ সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, স্কুলের চাকরিতে যোগদানের সময় রুহুল আমিনের দাখিল করা এসএসসি, এইচএসসি সনদকে যশোর শিক্ষা বোর্ড এবং বিএ ও বিএড পরীক্ষার সনদকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভুয়া বলে প্রত্যয়ন করেছে। তার বিরুদ্ধে শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতি, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরকারি কাজে বাধা দেয়া ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়।
২০১৩ সালের ৮ এপ্রিল এ মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়। এর আগে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসারের তদন্তে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনের শিক্ষাগত সকল সনদই ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৭ সালের জুন মাস থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই শিক্ষকের এমপিও স্থগিত করেন। পরে ওই স্কুলের শিক্ষকদের মাসিক হাজিরা খাতায় রুহুল আমিনের এমপিও স্থগিতের বিষয়টি উল্লেখ করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার।
এরপর এমপিও স্থগিতের বিষয়টি মাসিক হাজিরা খাতায় উল্লে না করতে হুমকি ও চাপ সৃষ্টির অভিযোগে রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়।
মো. আতিকুর রহমান/এএম/জেআইএম