লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় মো. নুরনবী (৪০) নামের এক ডেকোরেটর ব্যবসায়ীকে গলা কেটে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
সোমবার দুপুরে রায়পুর প্রধান সড়কের আমিন মাকের্টের গোডাউন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নুরনবী বিসমিল্লাহ ডেকোরেটরের মালিক ও চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ এলাকার মৃত ইউনুছ মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই ডেকোরেটরের দুই কর্মচারীসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
থানা পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানায়, মাকের্টের পেছনে নুরনবীর ডেকোরেটরের মালামাল রাখার গোডাউন ছিল। সেখানে তিনি প্রায় রাতেই থাকতেন। সোমবার ১১টার দিকে দোকানের দুই কর্মচারী মালামাল নিতে গোডাউনে যায়।
এ সময় দরজায় বাহির থেকে তালা ছিল। পরে তারা তালা ভেঙে ভেতরে ডুকলে নুরনবীর মরদেহ খাটের ওপর পড়ে থাকতে দেখেন।
নিহতের পা গামছা দিয়ে বাধা ছিল। গলাকাটা এবং গলার নিচে একটি গামচা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের যেকোনো সময় গামছা পেঁছিয়ে শ্বাসরোধ করে ধারল অস্ত্র দিয়ে গলাকেটে হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমিন মার্কেটের নবরুপ সেলুনের মালিক বাবলু শীল, ডেকোরেটরের দুই কর্মচারীসহ চারজনকে আটক করা হয়। থানায় পুলিশ হেফাজতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
নিহতের স্ত্রী পেয়ারা বেগম জানান, তার স্বামীর সঙ্গে কারও কোনো বিরোধ ছিল না। তিনি দোকানের পাশের গোডাউনে মাঝেমধ্যে রাতে থাকতেন। কী কারণে, কারা তাকে এভাবে হত্যা করেছে- তা নিশ্চিত নয়। তবে তিনি দোষীদের বিচার দাবি করেন। প্রসঙ্গত, নুরনবীর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনির্বান চাকমা বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কী কারণে, কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে-তা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই ডেকোরেটরের দুই কর্মচারীসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
কাজল কায়েস/এএম/এমএস