দেশজুড়ে

ঈশ্বরদী জংশন : প্রতিশ্রুতি আছে বাস্তবায়ন নেই

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার খ্যাত ঈশ্বরদীর ঐতিহ্যবাহী রেলওয়ে জংশনটির আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়ন হয়নি। জংশন স্টেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ। আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ না থাকায় সমস্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী এই জংশনের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে জাগো নিউজের ঈশ্বরদী প্রতিনিধি আলাউদ্দিন আহমেদের দুই পর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।

বাংলাদেশ রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ জংশন স্টেশন ঈশ্বরদীকে আধুনিকায়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ না থাকায় সমস্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার খ্যাত ঈশ্বরদীর ঐতিহ্যবাহী রেলওয়ে জংশনটি উন্নয়ন ও রি-মডেলিং আদৌ হবে কি না-এখন এ প্রশ্ন হাজারো মানুষের মনে। 

বর্তমান সরকার দীর্ঘ সময় পার করলেও ঈশ্বরদী রেল জংশন স্টেশন ও ইয়ার্ডে আধুনিকায়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি। ব্রিটিশ শাসন আমলে নির্মিত ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশন ও ইয়ার্ডটি আধুনিকায়নের জন্য বিগত জোট সরকার আমলেও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু করা হয়নি।

এদিকে বিগত ৯ম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইস্তেহারে উল্লেখ ছিল, ঈশ্বরদীর জংশন স্টেশনকে আধুনিকায়ন করা হবে। 

ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া (পাবনা-৪) আসনে টানা চারবার নির্বাচিত সাংসদ ও ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ বিষয়টি সংসদ অধিবেশনে উপস্থাপন করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈশ্বরদী জংশনটি রি-মডেলিংয়ের জন্য প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়নের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। 

জানা গেছে, ১৮৬২ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতবর্ষের ট্রেন চলাচল শুরু হয়। সে সময় পাকশি পদ্মা নদী সাঁড়াঘাটে ছিল রেল স্টেশন। পরবর্তীতে কালের পরিক্রমায় নতুন রেল স্টেশন স্থাপনের প্রয়োজন দেখা দেয়। 

১৯১০ সালে পাকশিতে পদ্মানদীর উপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১৯১৫ সালে এ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্থাপিত হয়। 

ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে দুই কিলোমিটার দীর্ঘ ইয়ার্ড ও ১৭টি রেললাইন রয়েছে। মূলত ব্রিটিশ আমল থেকে দেশের উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্থাপিত হয়। সেই সময় ঈশ্বরদীর উপর দিয়ে অনেক যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করত। 

দীর্ঘ প্রায় একশ বছরে সময়ের প্রয়োজনে অনেক কিছুরই পরিবর্তন ঘটানো হয়েছে। বর্তমানে এই স্টেশন দিয়ে ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন প্রকার ২৮টি যাত্রীবাহী ট্রেন ও ১২টি মালবাহী ট্রেন চলাচল করে। এগুলোর মধ্যে ১৭টি আন্তঃনগর, ৬টি মেইল ট্রেন ও ৭টি লোকাল। 

৪ প্লাটফর্ম বিশিষ্ট রেলওয়ে জংশন স্টেশনটি পরিচালনার জন্য বর্তমানে ১৯টি বিভাগে প্রায় আড়াই হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। 

১৯১০ সাল থেকে রেল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চলাচলের জন্য ঈশ্বরদী ও পাকশির মধ্যে ‘পাইলট’ নামে একটি ট্রেন চালু করা হয়। ঈশ্বরদী স্টেশন এবং হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণকালে পাকশি পদ্মানদীর পাদদেশে গড়ে তোলা হয় পাকশি বিভাগীয় রেলওয়ে অফিস। এই অফিস থেকে সেই সময় সারা ভারতবর্ষের মধ্যে রেল চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হতো। 

এফএ/পিআর