কংস নদীর ভাঙনে গত দুই বছরে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার ফকিরের বাজারাঞ্চলে চারটি গ্রামের পাঁচ শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর বিলিন হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে আরো পাঁচটি গ্রাম। ভেঙে যাচ্ছে জেলা শহর থেকে চলাচলের একমাত্র সড়কও। প্রশাসন বলছে নদীর তীর রক্ষায় নেয়া হচ্ছে ব্যবস্থা।
নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার ফকিরের বাজারাঞ্চলের কর্ণপুর, চরপাড়া, পাঁচপাই ও বাঘরুয়া গ্রামের পাঁচ শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর চলে গেছে নদী গর্ভে। বিলীন হয়ে গেছে পাঁচটি গ্রামের গাছপালাসহ সবকিছু। হুমকির মুখে আছে আরো আশপাশের পাঁচটি গ্রামের বাড়িঘর। ঠাকুরাকোণা ফকিরের বাজার সড়কের চরপাড়া এলাকায় আধাকিলোমিটার অংশ ভেঙে গেছে। নদীর ভাঙনে আতংকে রয়েছে নদীর পাড়ের লোকজন।
নদীর পানি কমতে শুরু করলে বাড়ে নদীর ভাঙন। চোখের সামনে নদীতে চলে যায় স্থানীয়দের একমাত্র বাসস্থান। আর নদী ভাঙনের কবলে পড়া এসব লোকজন আশ্রয় নিয়েছে আশপাশের এলাকায়।
বারহাট্টা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক তালুকদার জাগো নিউজকে জানান, চরপাড়ার অর্ধেকটা গ্রামের বাড়িঘর ভেঙে গেছে। ঘরবাড়ি হারা মানুষজন অন্যের বাড়িতে সরকারি রাস্তার পাশে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছে।
একই গ্রামের আবুল কাশেম জানান, আমার নিজের বাড়িঘরসহ আমাদের অন্তত ২০টি বাড়ি চলে গেছে নদী গর্ভে। শুধু ঘরবাড়িই নয় ফসলি জমিও চলে গেছে নদী গর্ভে। জমিজমা ও ঘরবাড়ি হারা মানুষ এখন নিঃস্ব হয়ে গেছে।
কর্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা ও রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার কুতুব উদ্দিন জাগো নিউজকে জানান, কর্ণপুর গ্রামের অর্ধেক বাড়িঘরসহ ফসলি জমি চলে গেছে নদীগর্ভে। এখন জেলা শহর থেকে যোগাযোগের একমাত্র সড়কটিও চলে যাচ্ছে নদীতে। সড়কটি চলে গেলে রায়পুর ইউনিয়নের ফসলি জমিতে নদীর বালি জমে নষ্ট হওয়ার আশংকা রয়েছে। তিনি দ্রুত ফকিরের বাজার থেকে কর্ণপুর পর্যন্ত কংশ নদী পাড় বাঁধানোর দাবি জানান।
গ্রাম রক্ষা বাঁধসহ সড়কটি রক্ষায় বারবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো ফল হয়নি বলে জাগো নিউজকে জানান, বারহাট্টা উপজেলার ৭ নং রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রাজু।
নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু তাহের জাগো নিউজকে জানান, কংশ নদীর পাড় রক্ষায় ডিপিপি করে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
তবে নদী ভাঙার বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জাগো নিউজকে জানান নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ড. মো. মুশফিকুর রহমান।
কামাল হোসাইন/এফএ/এমএস