নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় প্রেমে সাড়া না দেয়ায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে গায়ে জলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়ে গণধর্ষণের ঘটনায় তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন- উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের রমিজউদ্দীনের ছেলে রিপন ওরফে বড় ভাই (২২), সতুর ছেলে দেলু (১৮) ও মঞ্জুরের ছেলে জুয়েল (২০)। তারা প্রত্যেকে ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। তবে বখাটে সুজনকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ ও নির্যাতিত স্কুলছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ওই স্কুলছাত্রী (১৩) এক বছর আগে আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ষাড়পাড়া এলাকায় তার নানার বাড়ি থেকে লেখাপড়া করত।
স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে আড়াইহাজার উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকায় সুজন নামে এক বখাটে মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করত। একপর্যায়ে বখাটে সুজন মেয়েটিকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়।
এতে সে রাজি না হওয়ায় নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিল। মঙ্গলবার দুপুরে মেয়েটি তার এক বান্ধবীর সঙ্গে উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নের কলাগাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি বিউটি পার্লারে যায়। সেখান থেকে একা নানার বাড়ি ফেরার পথে একটি প্রাইভেটকারযোগে বখাটে সুজনসহ চার-পাঁচ যুবক তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
পরে উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকায় একটি ঘরে আটকে রেখে মেয়েটির শরীরে জ্বলন্ত সিগারেটের আগুনের ছ্যাঁকা দেয়া হয়। সেই সঙ্গে সুজন ও তার সহযোগীরা তাকে গণধর্ষণ করে। বুধবার রাতে সাড়ে ১১টার দিকে সুজন গংরা মেয়েটিকে উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ব্রিজের কাছে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
আড়াইহাজার থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ জানান, ওই কিশোরীকে নির্যাতন ও গণধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় বৃহস্পতিবার রাতে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
শাহাদাত হোসেন/আরএআর/পিআর