দেশজুড়ে

গোপালগঞ্জে চিকিৎসকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামলা-ভাঙচুর এবং ডাক্তার ও নার্সকে মারধরের প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের চিকিৎসক ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাত দিনের জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) পক্ষ থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।এর আগে রোববার সকাল থেকে বিএমএ গোপালগঞ্জ শাখার আহ্বানে সকল সরকারি ও বে-সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করে এ কর্মবিরতি ও ধর্মঘট পালন করে। রোববার দুপুর দেড়টার দিকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল সম্মেলন কক্ষে বিএমএ গোপালগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের সহযোগিতায় টুঙ্গিপাড়া হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বসবাসকারী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক আবুল বাশার গাজী ও তার পরিবারকে উচ্ছেদ এবং হাসপাতালের প্রবেশ মুখে আকবর হোসেনের মেডিসিনের দোকান উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনার জন্য প্রশাসনকে সাধুবাদ জানান হয়। সে সঙ্গে হাসপাতালে কর্ম পরিবেশ সৃষ্টির দাবি জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে বিএমএ গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ডা. আবিদ হোসেন শেখ বলেন, রোববার সকালে তার নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি প্রতিনিধি দল টুঙ্গিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের দাবি ইতিমধ্যে অনেকাংশে পূরণ হয়েছে। দাবি পূরণসহ নিরাপত্তা ও কর্ম পরিবেশ সৃষ্টি হলে যে কোনো সময় ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম সিরাজুল ইসলাম, বিএমএর সাধারণ সম্পাদক ডা. চৌধুরী শফিকুল আলম, ডা. পরিমল সরকার, ডা. আর্ব্দুলাহ আল মাহমুদ, ডা. প্রশান্ত কুমার স্বর্ণকার, ডা. হুমায়ূন কবীর, ডা. গোলাম মোস্তফা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।এর আগে সকালে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিএমএ, নার্সিং কল্যাণ সমিতি ও গ্রাম ডাক্তার কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ এ মানববন্ধনে অংশ নেন।অপরদিকে, জড়িত থাকার অভিযোগে হাসপাতালে মারা যাওয়া খাদিজাতুল কোবরার কথিত পিতা আকবর হোসেনকে পুলিশ প্রেপ্তার করলেও অপর ইন্ধনদাতা গহরডাঙ্গা মাদরাসার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাওলানা মোর্তুজা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে যান। তার উপস্থিতিতে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মাদ্রাসা ছাত্ররা এ তাণ্ডবে যোগ দিলেও পুলিশ মাওলানা মোতর্জাকে গ্রেপ্তার না করায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়ায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টে সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করতে কোনো বিশেষ মহলের হাত আছে কিনা- গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রেখেছে প্রশাসন (সূত্র প্রশাসন)।জেলা প্রশাসক খলিলুর রহমান বলেন, চিকিৎসকদের দাবির প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে আমরা বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আমাদের কাছে ফুটেজ আছে। দোষীদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনে কম্বাইন্ড অপারেশন চালনো হবে। এছাড়া ফুটেজ দেখে দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আত্ততায় আনা হবে।তিনি আরো বলেন, সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং টুঙ্গিপাড়া ছাড়া সকল সরকারি হাসপাতালে রোগীরা সেবা পাবেন বলে তিনি আশা করেন।বিএমএ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. চৌধুরী শফিকুর আলম জাগো নিউজকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।উল্লেখ্য, শুক্রবার একজন রোগী নিহত হওয়ার জের ধরে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কমপ্লেক্স এলাকায় অবস্থিত চিকিৎসকদের বাসভবনেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় এ সময়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. পবিত্র কুণ্ডুসহ এ হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৪০ জন। এ ঘটনার পর থেকে টুঙ্গিপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সব ধরণের কর্মকাণ্ড বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালের গেটের সামনে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ।এস এম হুমায়ূন কবীর/এআরএ/আরআইপি