কাঠালিয়া উপজেলার বানাই গ্রামের শাহাদৎ হোসেন সিদু তালুকদার এলাকার আমজাদ আলী বিশ্বাসের কাছ থেকে জমি কিনেছেন। সেই জমির দখল নিয়ে বিরোধের কারণে ঝালকাঠি আদালতে দখল চেয়ে মামলাও করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলছে। কবে মামলার রায় হবে সেটাও জানেন না। বার বার শুধু মামলার তারিখ পড়ছে। বৃদ্ধ বয়সে আদালতে যেতে হচ্ছে বার বার।
শুধু কাঁঠালিয়া উপজেলাই নয় জেলা শহর ছাড়া অন্য কোনো উপজেলাতেই চৌকি আদালতের কার্যক্রম নেই। ফলে জেলা সদর আদালতে মামলার জট লেগেই থাকে। এতে সাধারণ বিচার প্রার্থীরা চরম ভোগান্তির ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।
জানা গেছে, কাঁঠালিয়া উপজেলা সদর থেকে জেলা শহরের দুরত্ব ৫০ কিলোমিটার। আর এ উপজেলার পাটিখালঘাটা ইউনিয়ন থেকে জেলা সদরের দুরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। এছাড়া অন্যান্য ইউনিয়নসমুহের সঙ্গে জেলা ও উপজেলা শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই অনুন্নত। বেহাল রাস্তাঘাটের কারণে জেলা সদরে যেতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।
অনিয়মিত কিছু বাস, টেম্পু, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করলেও প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। সঠিক সময়ে আদালতে পৌঁছানো সম্ভব না হলে নানা রকম হয়রানি ও ভোগান্তিরও শিকার হতে হয়।
৪টি উপজেলা নিয়ে গঠিত ঝালকাঠি জেলা। জেলা শহরে অবস্থিত আদালত ব্যতীত অন্য ৩ উপজেলায় (নলছিটি, রাজাপুর ও কাঠালিয়া) কোনো আদালত নেই। এরমধ্যে সবচেয়ে দূরের উপজেলা হচ্ছে কাঁঠালিয়া। এসব উপজেলা সদরে কোনো আদালত না থাকায় বিচার প্রার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছেন।
এ উপজেলাগুলোয় দেওয়ানী বা ফৌজদারী আদালত না থাকায় জনগণ ন্যায় বিচার পেতে নানা ভোগান্তি ও বিড়ম্বনায় পড়ছেন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিচার প্রার্থীরা জেলা সদর আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন।
কাঁঠালিয়া উপজেলা সুজনের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল হালিম বলেন, ১৫২ দশমিক ০২ বর্গ কিলোমিটারের এ উপজেলায় দেড় লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। এখানকার অধিকাংশ জনগণ দরিদ্র এবং কৃষিজীবী। তাদের পক্ষে জেলা সদরে গিয়ে বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমা পরিচালনা করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য।
কাঁঠালিয়া সদরের অ্যাড. তরিকুল ইসলাম খোকন সিকদার বলেন, আদালত স্থাপনের আইনানুযায়ী জেলা শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরের উপজেলায় আদালত স্থাপনের একটি প্রজ্ঞাপন রয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া ও পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় আদালত রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ডা. শরীফ মুহম্মদ ফয়েজুল আলম বলেন, এ ব্যাপারে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক পরবর্তী সভায় জনগুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উত্থাপন করে রেজুলেশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাবরে অবহিত করা হবে। তবে ইতোপূর্বে এ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
কাঁঠালিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া সিকদার বলেন, উপজেলার দরিদ্র জনগণের সঠিক সময়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে উপজেলা সদরে দেওয়ানী ও ফৌজদারি আদালত স্থাপন করা একান্ত প্রয়োজন। উপজেলা পরিষদ পুরাতন কোর্ট ভবনে আদালত পরিচালনা করা সম্ভব। উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদাধিকার বলে নির্বাহী আদালত পরিচালনা করতে পারেন।
আতিকুর রহমান/এফএ/পিআর