কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় আসমা আক্তার সাথী নামে এক গৃহবধূর পরকীয়ার জেরে খুন হয়েছে রাসেল নামে এক সিএনজিচালক। হত্যাকাণ্ডের তিন সপ্তাহ পর জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার পুরনো বিমানবন্দর এলাকার একটি জঙ্গল থেকে রাসেলের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার ক্লু উদঘাটনসহ ঘাতকদের গ্রেফতারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে তিনজন বৃহস্পতিবার কুমিল্লার আদালতে সিএনজিচালক রাসেলকে অপহরণের পর হত্যার চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুভপুর গ্রামের সিএনজিচালক রাসেল গত ১৮ জুন যাত্রী নিয়ে নাঙ্গলকোটের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। এরপর তাকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে গত ২৫ জুন রাসেলের বাবা জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা করেন।
পরে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের ওসি আবুল ফয়সালের নেতৃত্বে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে একই গ্রামের শাহীন, একরামুল হক পাগলা ও সন্দেহভাজন আসামি আসমা আক্তার সাথীকে গ্রেফতার করে।
এদের মধ্যে শাহীনের কাছ থেকে সিএনজিটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে টুংকু মিয়া নামে একজনকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসে রাসেল হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, তার বড় ভাই গিয়াসউদ্দিনসহ আরও দুজন শাহীন এবং অলি আহাম্মদ মিলে রাসেলকে হত্যার পর কুমিল্লার পুরনো বিমানবন্দরের একটি জঙ্গলে মরদেহ ফেলে রাখে।
এদিকে গত ৮ জুলাই জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার পুরনো বিমানবন্দর এলাকার জঙ্গল থেকে একটি কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। পরে টুংকুর কাছ থেকে হত্যার বিষয়টি অবগত হয়ে রাসেলের বাবা-মাকে বিমানবন্দর সংলগ্ন ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসলে তারা কঙ্কালের পাশে পড়ে থাকা জামা, প্যান্ট ও মোবাইল দেখে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালটি রাসেলের বলে শনাক্ত করেন।
এছাড়া ফেনী রেলস্টেশন থেকে গ্রেফতার হওয়া আসামি গিয়াস উদ্দিন পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, ভিকটিম রাসেলের সঙ্গে তার ভাবি আসমা আক্তার সাথীর পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। একই সঙ্গে গিয়াসের সঙ্গে সাথীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে রাসেল বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
রাসেল সাথীর কাছ গিয়াসের স্বভাব চরিত্র ভালো নয় বলে নানা কুৎসা রটায়। বিষয়টি সাথী গিয়াসকে অবগত করলে সে রাসেলের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
গত ১৮ জুন গিয়াস, অলি ও শাহীন জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলা এলাকায় যাওয়ার কথা বলে রাসেলের সিএনজি ভাড়া নেয়। দিনভর বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরার পর রাতে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার রাজাপাড়া রাস্তার মোড়ে সিএনজিটি রেখে ইয়াবা খাওয়ার কথা বলে রাসেলকে বিমানবন্দর এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে ঘাতকরা ইয়াবা সেবন করে রাসেলকে নির্মমভাবে হত্যার পর মরদেহ একটি জঙ্গলে লুকিয়ে রাখে।
বৃহস্পতিবার গ্রেফতার পাঁচজনের মধ্যে শাহীন, গিয়াস উদ্দিন ও টুংকু মিয়া কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের আদালতে এমন চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন বলেন, রাসেলকে হত্যার পর ঘাতকরা তাদের হাতের ছাপ মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে ভিকটিমের মুখে ও শরীরে কাদা মাটি মেখে দেয়। আসমার সঙ্গে পরকীয়ার কারণে খুন হয় সিএনজিচালক রাসেল।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) মো. আবদুল্লাহ আল-মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মো. শাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।
মো. কামাল উদ্দিন/এএম/আরআইপি